পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং ডিমের বরাদ্দ ভাগাভাগি নিয়ে ঠিকাদারের সঙ্গে দুটি বিদ্যালয়ের শিক্ষকের আলাপচারিতা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। গত ১০ মে এ ঘটনা ঘটলেও ১২ মে বিষয়টি জানাজানি হয়। এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তিন সদস্য কমিটি তদন্ত শুরু করেছে।
৯ মিনিট ৫৬ সেকেন্ডের ওই ভিডিও উপজেলার ৫৬ নম্বর মঠবাড়িয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মো. নাসির উদ্দীন ও ৬৫ নম্বর সূর্যমনি নেছারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমানের সঙ্গে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবার সরবরাহকারী ভোলার বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ উন্নয়নের ঠিকাদার নুরুন্নবীসহ কয়েকজনকে দেখা যায়।
ভিডিওর শুরুতেই প্রধান শিক্ষককে ধূমপান করতে দেখা যায়। এ সময় ঠিকাদার নুরুন্নবী শিডিউল অনুযায়ী সরবরাহ ও ডিম বণ্টন নিয়ে কথা বলছিলেন। এক পর্যায়ে ১২ হাজার ছাত্রের জন্য ১৮ হাজার ডিমের বরাদ্দ ও ব্যবহার নিয়ে নানা হিসাব-নিকাশ করেন তারা। এতে দুই শিক্ষক অতিরিক্ত ছয় হাজার ডিম বা সমপরিমাণ ডিমের টাকা কীভাবে ভাগবাঁটোয়ারা করবেন, এ নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়। শিক্ষকরা ঠিকাদারের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে সমন্বয়ের প্রস্তাব দেন। ঠিকাদার শিডিউল অনুযায়ী কাজ করার পক্ষে অবস্থান নেন। তিনি নিয়মবহির্ভূত কোনো কাজে নিজেকে না জড়ানোর কথা বলেন।
এবিষয়ে কথা বলতে কয়েক দফা মোবাইল ফোনে কল দিয়ে ৫৬ নম্বর মঠবাড়িয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নাসির উদ্দীনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে ৬৫ নম্বর সূর্যমনি নেছারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমানের দাবি, ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তাদের কথোপকথনকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্তাধীন জানিয়ে এ প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি তিনি।
ঠিকাদার নুরুন্নবীর সঙ্গে কয়েক দফায় চেষ্টা করেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পিরোজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোল্লা বখতিয়ার রহমান জানান , প্রধান শিক্ষক ও ঠিকাদারের মধ্যে কথোপকথন সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার বিষয় নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে। কমিটির কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকলিমা আক্তার জানান, ভাইরাল হওয়া ভিডিওর বিষয় নিয়ে জেলা পর্যায়ে তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে এবং তাদের প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেওয়া হবে।
এছাড়া উপজেলায় ফিডিং কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।