চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা খাতে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে কর্মরত থেকে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আশরাফুল আলমকে অবশেষে বদলি করা হয়েছে। দৈনিক দেশ রূপান্তর-এ তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশের পর শিক্ষা প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নেয়।
শনিবার (১৭ মে) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে প্রকাশিত এক অফিস আদেশে তাঁর বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়। মাউশির সহকারী পরিচালক (সাধারণ প্রশাসন-২) কামরুন নাহার রীমা স্বাক্ষরিত আদেশে জানানো হয়, মতলব উত্তর উপজেলার সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলমকে ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায় একই পদে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে।
আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, বদলিকৃত কর্মকর্তাকে আগামী ২১ মে ২০২৬ তারিখ পূর্বাহ্নের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হতে হবে। অন্যথায় ওইদিন অপরাহ্নে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত বলে গণ্য হবেন।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে মতলব উত্তর উপজেলায় যোগদানের পর থেকেই আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে আধিপত্য বিস্তার ও শিক্ষকদের জিম্মি করে রাখার অভিযোগ ওঠে। আওয়ামী লীগের সাবেক প্রভাবশালী মন্ত্রী মায়া চৌধুরীর পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুবাদে তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
নিয়োগ বাণিজ্য, এমপিওভুক্তি ও উচ্চতর স্কেলের ফাইল ছাড় করতে শিক্ষকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়ার অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। এছাড়া এসএসসি পরীক্ষা, শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি, স্কুলগুলোর গ্রীষ্মকালীন ও শীতকালীন ক্রীড়া বাজেট এবং ব্যাকরণ বই ক্রয়ে কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে।
১০ম গ্রেডের সরকারি কর্মকর্তা হয়েও প্রভাব খাটিয়ে তিনি ৯টি স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এবং ২৩টি স্কুলের প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব নিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থেকে মতলবের মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া এই কর্মকর্তার বদলির খবরে স্থানীয় শিক্ষক, অভিভাবক ও সচেতন মহলে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, শুধু বদলি নয়, তদন্তের মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা দীর্ঘদিনের দুর্নীতির অভিযোগের সুষ্ঠু বিচারও নিশ্চিত করতে হবে।