হাম ও হামের উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ৬ শিশুর

হাম ও হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামে এক শিশু এবং বাকি পাঁচজনের শরীরে হামের উপসর্গ ছিল। একই সময়ে ‘সন্দেহজনক’ হামে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ২৭৪ জন এবং হাম শনাক্ত হয়েছে ২৪৩  জনের। তাতে হামজনিত নতুন রোগী পাওয়া গেছে ১ হাজার ৫১৭ জন। এ নিয়ে সরকারি হিসাবে হাম সন্দেহে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫৯ জনে। এর মধ্যে হামে মৃত্যু হয়েছে ৭৫ জনের এবং সন্দেহজনক হামে ৩৮৪ শিশু। গতকাল রবিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ছয় শিশুর মধ্যে ঢাকা বিভাগের তিনজন, বরিশাল, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে একজন করে মারা গেছে। একই সময়ে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ৬৩৩ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে রোগী রয়েছে ২২৬ জন।  

অধিদপ্তরে তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৭ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে ৫৭ হাজার ৮৪৬ জনের শরীরে। হাম শনাক্ত হয়েছে ৭ হাজার ৪১৬ জনের। এ সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪২ হাজার ৯২ জন। সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ৩৭ হাজার ৭৪৪ জন।

সরকারি হিসাবে বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে; ৪৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ বিভাগে ‘সন্দেহজনক হামে’ মৃত্যু হয়েছে ১৫৩ জনের। এরপরেই রয়েছে রাজশাহী বিভাগে ৭৮, চট্টগ্রামে ৩৫, ময়মনসিংহে ৩৩,  সিলেটে  ৩৩, বরিশালে ২৯, খুলনায় ১৯ এবং রংপুরে ৪ জন হামের উপসর্গে মৃত্যু হয়েছে।

হাম ভালো হওয়ার পরও মৃত্যু হচ্ছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী : এদিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘হাম ও ডেঙ্গু রোগ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা ও প্রতিরোধই সর্বোত্তম পন্থা’ শীর্ষক এক সেমিনারের আয়োজন করে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)। এ সেমিনারে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, মাতৃদুগ্ধ পান, পুষ্টিকর খাবার, পরিচ্ছন্নতা, আইসোলেশন এবং সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করা গেলে হাম ও ডেঙ্গু দুই রোগই অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। তাই আমাদের চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধ ও জনসচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুদের মায়েদের বেশিরভাগ পুষ্টিহীনতায় ভুগছে। হামে মৃত্যুরও অন্যতম কারণ পুষ্টি ঘাটতি। পুষ্টিহীনতার কারণে শিশুরা হামের সঙ্গে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। আক্রান্তদের সঠিকভাবে আইসোলেশন করতে না পারায় ছড়িয়েছে হাম। নানা সমস্যার কারণে হাম এবার স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে জর্জরিত করেছে।

তিনি বলেন, আগে ধারণা ছিল ৬ থেকে ৯ মাস বয়স পর্যন্ত শিশুর শরীরে মায়ের দুধের মাধ্যমে ইমিউনিটি থাকে। কিন্তু এখন সেই বয়সী শিশুরাও হামে আক্রান্ত হচ্ছে। এর বড় কারণ অপুষ্টি ও বুকের দুধ না পাওয়া। বেশিরভাগ রোগী হাম থেকে পরে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে হাম ভালো হওয়ার পরও সেকেন্ডারি ইনফেকশন ও নিউমোনিয়ায় মৃত্যু হচ্ছে।

সেমিনারে হামের বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফারহানা হক। সেমিনারে ডেঙ্গু সচেতনতা বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড্যাবের গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. সায়েম। ড্যাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কেনানের সভাপতিত্বে সেমিনারে ড্যাবের সাবেক মহাসচিব এবং সংসদ সদস্য ডা. মো. আব্দুস সালাম, ড্যাবের মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।