ইরানের প্রেসিডেন্ট

মুসলিম বিশ্বে বিভেদ ছড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল

মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস ও কৃত্রিম বিভেদ সৃষ্টি করে তাদের একে অপরের মুখোমুখি দাঁড় করানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।  রবিবার (১৮ মে) তেহরানে সফররত পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভির সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই অভিযোগ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

বৈঠকে পেজেশকিয়ান ইরানের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি তুলে ধরে বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে, বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলের মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক জোরালো করতে তেহরান সবসময় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে মার্কিন প্রশাসন ও ইসরায়েল চিরকালই বিভাজনের রাজনীতি করে এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে চেয়েছে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা প্রশমন এবং যুদ্ধবিরতি মধ্যস্থতায় পাকিস্তানের কূটনৈতিক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন ইরানি প্রেসিডেন্ট। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইসলামাবাদের এই আন্তরিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ওপর হওয়া হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এসব হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনি, বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা, মন্ত্রী এবং সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন।

ইরানের প্রেসিডেন্ট আরও অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্ত দিয়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অনুপ্রবেশ করিয়ে দেশটিতে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা চালিয়েছিল। তবে পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ইরাক তাদের ভূখণ্ডকে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না দেওয়ায় তিনি প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, মুসলিম বিশ্ব যদি নিজেদের মধ্যকার সমস্ত মতভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হতে পারে, তবে কোনো বহিরাগত শক্তি বা ইসরায়েল কখনো মুসলিম দেশগুলোর সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হানার সাহস পাবে না।

বৈঠকে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক উত্তেজনা কমিয়ে শান্তি বজায় রাখতে ইসলামাবাদ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনগুলোতে ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যে রাজনীতি, অর্থনৈতিক এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।

উল্লেখ্য, দুই দিনের সরকারি সফরে শনিবার তেহরানে পৌঁছান পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সফরকালে তিনি ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফের সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বৈঠক করেছেন।