গাজাজুড়ে ইসরায়েলি হামলা, নিহত ৪; ধ্বংস চিকিৎসাসামগ্রীর গুদাম

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৬, ১২:৩৩ এএম

গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত চার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকার আল-আকসা মার্টার্স হাসপাতালের সংলগ্ন ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর গুদামে হামলা চালানো হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, এ হামলায় হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাসামগ্রীর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

শনিবার (১ আগস্ট) এসব হামলার ঘটনা ঘটে। এর কয়েক দিন আগেই হামাসসহ বিভিন্ন ফিলিস্তিনি সংগঠন একটি নিরস্ত্রীকরণ চুক্তিতে সই করে, যাকে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ অবসানের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি ইসরায়েল একাধিকবার লঙ্ঘন করেছে। গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় থেকে এখন পর্যন্ত এক হাজার ২০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার বরাতে জানা যায়, গাজা সিটির শেখ রাদওয়ান এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় দুইজন নিহত হন। আহত কয়েকজনকে আল-শিফা হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া দেইর আল-বালাহে পৃথক এক ড্রোন হামলায় একজন এবং খান ইউনিসের উত্তরে আল-মাওয়াসি এলাকায় একটি স্কুলসংলগ্ন তাঁবুতে হামলায় আরও একজন নিহত হন।

ওষুধের গুদামে হামলা

রাতভর চালানো পৃথক হামলায় আল-আকসা মার্টার্স হাসপাতালের সঙ্গে সংযুক্ত ওষুধের গুদাম ধ্বংস হয়ে যায়। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বারশ বলেন, ওষুধ ধ্বংস করা এবং নতুন ওষুধ প্রবেশে বাধা দেওয়ার মাধ্যমে অসুস্থতাকেই যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, চারটি গুদামের মধ্যে দুটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং বাকি দুটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনাকে তারা 'জঘন্য অপরাধ' আখ্যা দিয়ে চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোর সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদক মোয়াথ আল-কাহলুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, হামলার আগে ইসরায়েলি বাহিনী হাসপাতাল এলাকা খালি করার নির্দেশ দেয়। মাত্র ১৫ মিনিট পরই সেখানে বিমান হামলা চালানো হয়। হামলায় আশপাশের বাস্তুচ্যুত মানুষের অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র ও তাঁবুও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

হাসপাতালের মুখপাত্র খলিল আল-দাকরান জানান, হামলায় শিরায় প্রয়োগযোগ্য তরল, বিভিন্ন ওষুধ, ডায়ালাইসিস এবং নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে ব্যবহৃত চিকিৎসাসামগ্রী ধ্বংস হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাসপাতালের পাশের বাস্তুচ্যুত পরিবারের কয়েকটি তাঁবুতেও আগুন ধরে যায়।

স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর নতুন আঘাত

আল জাজিরার গাজা প্রতিনিধি হানি মাহমুদ বলেন, মধ্য গাজায় এখনো সীমিত পরিসরে কার্যকর থাকা হাসপাতালগুলোর মধ্যে আল-আকসা মার্টার্স হাসপাতাল অন্যতম। দীর্ঘ যুদ্ধের কারণে স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় বাস্তুচ্যুত মানুষের চিকিৎসার প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছে এই হাসপাতাল।

অন্যদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেত দাবি করেছে, তারা রাতভর অভিযানে হামাসের পাঁচটি অস্ত্রগুদাম ধ্বংস করেছে, যার একটি আল-আকসা হাসপাতালের কাছাকাছি ছিল।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, গত ৪৮ ঘণ্টায় পুরো গাজায় সাতজন নিহত এবং ৭৬ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া পূর্বের হামলায় আহত আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর থেকে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ২২২ জনে। আর ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান যুদ্ধে মোট নিহতের সংখ্যা ৭৩ হাজার ৩৪৯ জন।

ধ্বংসস্তূপ থেকে ১১২ মরদেহ উদ্ধার

গাজার সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, গাজা সিটির সাবরা এলাকায় প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ধ্বংস হওয়া একটি বাড়ির ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহ উদ্ধারের কাজ শেষ হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ১১২ জনের মরদেহ, যাদের মধ্যে ৪০ জন শিশু ও ৩৮ জন নারী রয়েছেন।

উদ্ধারকাজের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ আবু দান বলেন, এখনো অন্তত ১৫৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন। বিস্ফোরণের তীব্রতায় অনেক মরদেহ কংক্রিট ও লোহার কাঠামোর সঙ্গে মিশে গেছে বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে বলে তিনি জানান।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক উপ-জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মার্ক ফাইফেল আল জাজিরাকে বলেন, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ ও ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের নতুন রূপরেখা ঘোষণার পরও গাজায় হামলা অব্যাহত রাখা থেকে বোঝা যায়, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বর্তমান প্রস্তাবটি এখনো গ্রহণ করতে প্রস্তুত নন। তিনি বলেন, নেতানিয়াহু এ বার্তার মাধ্যমে বোঝাতে চাইছেন যে, এই কাঠামো নিয়ে তার এখনো কিছু আপত্তি রয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত