বিশ্বমঞ্চে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ঢাকা’র গৌরবময় সাফল্য

ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় অবস্থিত BINUS University-এ গত ১৬ ও ১৭ মে অনুষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক রোবোটিক্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রতিযোগিতা ‘Codeavour International 7.0’। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এই প্রযুক্তি প্রতিযোগিতায় ২২টি দেশের প্রায় ২৮০টি দল অংশগ্রহণ করে। বাংলাদেশ থেকেও বিভিন্ন খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মোট ১০টি দল এই আন্তর্জাতিক আসরে অংশ নেয়।

বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল Armed Police Battalion School and College, Dhaka-এর দল ‘Akash Pathabo’। দলটি তাদের উদ্ভাবিত একটি মাল্টি-পারপাস রোভার প্রজেক্ট উপস্থাপন করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্যে তৈরি এই অত্যাধুনিক রোভারটি ট্যাংক-মুভমেন্ট প্রযুক্তিনির্ভর হওয়ায় দুর্গম এলাকাতেও সহজে চলাচল করতে সক্ষম। এতে সংযোজিত রয়েছে অবস্ট্যাকল অ্যাভয়ডেন্স প্রযুক্তি, লাইভ ক্যামেরা ফিড এবং একটি রোবোটিক আর্ম, যার মাধ্যমে দূর থেকে বিভিন্ন বস্তু নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এছাড়াও রোভারটিতে গ্যাস, তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা পরিমাপের জন্য একাধিক সেন্সর ব্যবহার করা হয়েছে, যা পরিবেশগত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে সংগ্রহ ও প্রদর্শন করতে পারে। ম্যানুয়াল ও স্বয়ংক্রিয়—উভয় মোডে পরিচালনাযোগ্য হওয়ায় এটি বাস্তব পরিস্থিতিতে অত্যন্ত কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব।

এই উদ্ভাবনী প্রকল্পে নেতৃত্ব দেয় প্রতিষ্ঠানের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী সাফওয়ান সাদাত। প্রোগ্রামিংয়ের দায়িত্বে ছিল মুহতাসিম রহমান এবং সেফটি অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আবিদুর রহমান।

তাদের উদ্ভাবিত প্রজেক্টটি প্রতিযোগিতার ‘Senior Category – Track One’ বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। বিজয়ী দলকে চ্যাম্পিয়ন মেডেল ও সনদ প্রদান করা হয়।

এই অর্জনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত দক্ষতা, উদ্ভাবনী চিন্তাশক্তি এবং তরুণ প্রজন্মের সম্ভাবনা উজ্জ্বলভাবে তুলে ধরেছে দলটি।

Bangladesh Police-এর ইন্সপেক্টর জেনারেল এবং Armed Police Battalion School and College, Dhaka-এর গভর্নিং বডির সভাপতি মো. আলী হোসেন ফকির এই গৌরবময় সাফল্যের জন্য তরুণ বিজ্ঞানী দল এবং প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ভবিষ্যতেও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিক্ষেত্রে নতুন নতুন সাফল্য বয়ে আনবে। একই সঙ্গে বিজ্ঞানচর্চা ও সৃজনশীল উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডে প্রতিষ্ঠান থেকে সার্বিক সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।