জিলহজের চাঁদ উঠার পর চুল-নখ না কাটলে কি কোরবানির সওয়াব পাওয়া যায়?

প্রশ্ন : কোরবানির ঈদের আগে একটা কথা প্রায়ই শোনা যায়, জিলহজ মাসের চাঁদ উঠার পর চুল-নখ না কাটলে কোরবানির সওয়াব পাওয়া যায়। এই কথাটি কি সঠিক?

  • খায়ের, মুহাম্মদপুর, ঢাকা

 

উত্তর : জিলহজ মাসের চাঁদ উঠার পর কোরবানি দাতাদার জন্য চুল-নখ না কাটা মুস্তাহাব। উম্মে সালাম (রা.) থেকে বর্ণিত, নবিজি (সা.) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে যারা কোরবানি করবে, জিলহজের চাঁদ দেখার পর থেকে তারা যেন চুল নখ না কাটে। (সহিহ মুসলিম ১৯৭৭) 

এ হাদিস অনুযায়ী জিলহজের চাঁদ ওঠার পর থেকে কোরবানি দাতার জন্য চুল, নখ, লোম না কাটা মুস্তাহাব। তবে এ হুকুম তাদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে, যারা জিলকদের শেষে নখ-চুল কেটেছে। নখ-চুল বেশি লম্বা হয়ে গেলে কেটে ফেলতে হবে।

যারা কোররবানি করবে না, তাদের জন্য এ হুকুম প্রযোজ্য কি না, এ ব্যাপারে কেউ কেউ বলেছেন, এ হুকুম শুধুমাত্র কোরবানি দাতার জন্য প্রযোজ্য। হাদিসে শুধু কোরবানি দাতার কথাই বলা হয়েছে।

তবে কারো কারো মতে, সামর্থ্য না থাকায় যারা কোরবানি করবে না, আমলটি তাদের জন্যও। তাদের দলিল হলো আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিস। 

আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, নবিজি (সা.) একবার এক সাহাবিকে বললেন, আমাকে কোরবানির দিন ঈদ পালনের আদেশ করা হয়েছে, যা আল্লাহ এ উম্মতের জন্য নির্ধারণ করেছেন। ওই সাহাবি বললেন, যদি আমার কাছে শুধু একটি মানিহা অর্থাৎ অন্যের থেকে নেওয়া দুগ্ধ দানকারী উষ্ট্রী থাকে, আমি কি তা কোরবানি করে ফেলব? নবিজি (সা.) বললেন, না, তবে তুমি চুল, নখ ও গোঁফ কাটবে এবং নাভীর নিচের লোম পরিষ্কার করবে। এটাই আল্লাহর দরবারে তোমার পূর্ণ কোরবানি বলে গণ্য হবে। (আবু দাউদ ২৭৮৯, নাসায়ি ৪৩৬৫)