এই প্রকল্পে অন্তত ৮০ শতাংশ জলাবদ্ধতামুক্ত হবে চট্টগ্রাম

দেশ রূপান্তর : জলাবদ্ধতা নিরসনে সিডিএর মেগা প্রকল্প শেষ হতে যাচ্ছে। আপনি কি মনে করেন প্রকল্প শেষ হলেই নগরী জলাবদ্ধতামুক্ত হবে?

প্রকৌশলী নুরুল করিম : প্রকল্পের কাজ এবারের বর্ষার আগেই শেষ হয়ে যেত। বৈশাখের বৃষ্টির কারণে আমরা পিছিয়ে গেলাম। আগামী বর্ষার আগেই আমাদের প্রকল্পের কাজ শেষ হবে তা নিয়ে সন্দেহ নেই। কিন্তু এই প্রকল্পই জলাবদ্ধতামুক্ত নগরীর জন্য অপরিহার্য নয়। এই প্রকল্পে নগরীর ৫৭টি খালের মধ্যে ৩৬টি খাল রয়েছে, প্রকল্পের বাইরে রয়েছে আরও ২১টি খাল। এই ২১ খাল নিয়ে প্রকল্প নিতে হবে। আর এই কাজটি সিটি কর্পোরেশনকেই করতে হবে। বর্তমানে জলাবদ্ধতার অবস্থা জানতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রতিনিয়ত খোঁজখবর রাখছেন এবং গত শনিবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মহোদয়ও প্রকল্পের কাজ সরেজমিন ঘুরে দেখেছেন। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী প্রতিনিয়ত মনিটরিং করছেন। এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে নগরীর জলাবদ্ধতা দুর্ভোগ অন্তত ৮০ শতাংশ মুক্ত হবে।

দেশ রূপান্তর : কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার চার প্রকল্প ৮ বছর পর শেষ হচ্ছে। তারপরও কেন জলাবদ্ধতা দুর্ভোগ থেকে মুক্তি আসবে না?

প্রকৌশলী নুরুল করিম : জলাবদ্ধতায় খাল খনন, স্লুইসগেট নির্মাণ কিংবা পাম্প হাউজ নির্মাণ করা অনেকগুলো অংশের একেকটি পার্ট। নগরীর ময়লা-আবর্জনা যেভাবে যত্রতত্র নালা ও খালে ফেলা হচ্ছে, এতে সব ভরাট হয়ে যাচ্ছে। প্রথম বৃষ্টিতে পাহাড় থেকে আসা বালি মাটি দ্বারা ভরাট হয়ে যাচ্ছে নালা ও খাল। কম সময়ে অধিক বৃষ্টিপাত হলে তা ধারণ করার ক্ষমতা নালা ও খালের নেই। একসময় নগরীতে পরিত্যক্ত ভূমিগুলো প্রাকৃতিক জলাধার হিসেবে কাজ করত। কিন্তু নগরায়ণের কারণে সেগুলোতেও ভরাট হয়ে এখন স্থাপনা নির্মিত হয়ে গেছে। তাই নগরীতে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও নতুন খাল ও নালা নির্মাণ করতে হবে। একই সঙ্গে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিকায়ন আনতে হবে। কোনো কাজই বন্ধ করা যাবে না। তবেই সামগ্রিকভাবে আমরা হয়তো জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাব।

দেশ রূপান্তর : আপনি বলছেন এখন আবারও নতুন প্রকল্প নিতে হবে। সিডিএ কি এ বিষয়ে কোনো গাইডলাইন তৈরি করেছে?

প্রকৌশলী নুরুল করিম : আমরা নতুন মাস্টারপ্ল্যান করছি। সেই মাস্টারপ্ল্যানে নগরীতে নতুন করে নালা, খাল ও জলাধার করার পরিকল্পনা করেছি। এর মধ্যে অনেক নালা-খাল আছে যেগুলো সম্প্রসারণ করা হবে আবার অনেকগুলো নতুন করে খনন করতে হবে। একই সঙ্গে শহরের ভেতর ও বাইরের মধ্যে পানি প্রবাহের একটি সামঞ্জস্য তৈরি করা হবে। সিডিএ আওতাধীন এলাকায় নতুন করে আরও ৭৯টি সিল্ট ট্র্যাপ (পলি জমার স্থান), ৩৪টি পয়েন্টে স্বয়ংক্রিয় এলার্ট সিস্টেম, ৬৫টি টাইডাল রেগুলেটর, নতুন করে ১০৪ কিলোমিটার খাল নির্মাণ, ২ হাজার ৮৭৫ একর আয়তনের জলাধার নির্মাণসহ আরও কিছু পরিকল্পনা মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় রয়েছে। এসব পরিকল্পনা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাস্তবায়ন করতে হবে। আর করা গেলেই জলাবদ্ধতা দুর্ভোগ কমে আসবে।

দেশ রূপান্তর : জলাবদ্ধতায় বর্তমানে সিডিএর দুটি প্রকল্প রয়েছে। ৩৬টি খাল সংস্কার ও সম্প্রসারণ ছাড়াও ১৭টি খালের মুখে রেগুলেটর রয়েছে। প্রকল্প শেষ হলে নিয়ম অনুযায়ী এগুলো সিটি করপোরেশনকে হস্তান্তর করার কথা। আপনারা কীভাবে হস্তান্তর করবেন ?

প্রকৌশলী নুরুল করিম : আগামী বর্ষার আগেই আমাদের ৩৬টি খালের কাজ শেষ হয় যাবে। একই সঙ্গে সবগুলো খালের মুখে রেগুলেটর বসানোর কাজও শেষ হবে। তবে নালা ও খালগুলো কীভাবে পরিষ্কার করা হবে এবং রেগুলেটর পরিচালনা নিয়ে একটি ম্যানুয়েল তৈরি করা হয়েছে। সেই ম্যানুয়েল অনুযায়ী কীভাবে কাজ করতে হবে তা প্রশিক্ষিত করতে সিটি করপোরেশনকে এক বছর সময় দেওয়া হবে। এই সময়ের মধ্যে সিটি করপোরেশন এক্সপার্টিস গড়ে তোলা হবে।

প্রকৌশলী নুরুল করিম

চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ