রোহিঙ্গা গণহত্যার দুই বছর পেরোলেও মেলেনি ন্যায়বিচার

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর ঘটে যাওয়া নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো অধরা রয়ে গেছে ন্যায়বিচার। রাখাইনের বুথিডং উপজেলার হোইয়ার সিরি গ্রামে শতাধিক মানুষকে হত্যার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও এই ঘটনার কোনো সুষ্ঠু বিচার হয়নি। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।

সংস্থার প্রকাশিত ৫৬ পৃষ্ঠার একটি বিশদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ২ মে হোইয়ার সিরি গ্রামে নিরস্ত্র ও নিরীহ রোহিঙ্গা গ্রামবাসীদের ওপর নির্বিচারে হামলা চালায় আরাকান আর্মি। স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত ছবি, বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও স্থিরচিত্র, গবেষকদের সংগৃহীত তথ্য এবং হামলার শিকার ও প্রত্যক্ষদর্শী ৪১ জনের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ওই দিনের হামলায় অন্তত ১৭০ জন বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তবে প্রকৃত নিহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই নৃশংস হামলা থেকে কোনোমতে প্রাণ বাঁচিয়ে বেঁচে যাওয়া মানুষগুলো এখনো নিজেদের ঘরে ফিরতে পারেননি। তারা এখনো বাস্তুচ্যুত জীবনযাপন করছেন। আক্রান্তদের মধ্যে অনেকেই পরবর্তীতে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ায় পালিয়ে গিয়ে আশ্রয় নেন এবং তাদের মাধ্যমেই ধীরে ধীরে এই হত্যাযজ্ঞের নির্মম ও লোমহর্ষক তথ্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সামনে আসে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ স্পষ্ট জানিয়েছে, বেসামরিক মানুষের ওপর এমন পরিকল্পিত হামলা, গণহত্যা এবং সম্পদ ধ্বংসের মতো ঘটনা সরাসরি যুদ্ধাপরাধ ও গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। শুধু হত্যাকাণ্ডই নয়, নিরীহ মানুষকে বেআইনিভাবে আটকে রাখা, হেফাজতে নিয়ে নির্যাতন, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং মৌলিক মানবাধিকারের ন্যূনতম তোয়াক্কা না করার মতো মারাত্মক অভিযোগও উঠেছে সশস্ত্র গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে।

এই পুরো ঘটনার পেছনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর চরম উদাসীনতা ও নিষ্ক্রিয়তার কথাও প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো মনে করছে, জবাবদিহিতা ও বিচারের অভাবের কারণেই রাখাইন অঞ্চলে বারবার এমন অস্থিতিশীল এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। বিশ্ব সম্প্রদায়কে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে মানবাধিকার কর্মীরা।