ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সিএনজিতে জাহানারা হত্যা রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৩

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ছিনতাইকারী চক্রের হাতে খুন হওয়া জাহানারা বেগম হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজে সিএনজির গায়ে লেখা ‘মা বাবার দোয়া আয়াত পরিবহন’ সূত্র ধরে অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বুধবার (২০ মে) জেলা পুলিশের মিডিয়া উইং থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

জানা যায়, গত ১৪ মে দুপুর ৩টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার কুমারশীল মোড় থেকে আশুগঞ্জে নিজ বাড়ি যাওয়ার জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন জাহানারা বেগম। পথে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্র তাকে ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে আক্রমণ করে। তিনি বাধা দিলে ও চিৎকার শুরু করলে দুর্বৃত্তরা তাকে ছুরিকাঘাত করে। পরে সদর উপজেলার অষ্টগ্রাম এলাকায় রাস্তার পাশে ফেলে পালিয়ে যায় তারা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহতের ছেলে জুবায়েদুর রহমান খান ইমন গত ১৮ মে সদর মডেল থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সিএনজির পেছনে লেখা ‘মা বাবার দোয়া আয়াত পরিবহন’ শনাক্ত করে। ওই সূত্র ধরে ১৮ মে দুপুরে ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি গ্যারেজ থেকে সিএনজিটি উদ্ধার এবং চালক মো. বাদশাহকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উত্তর পৈরতলা এলাকা থেকে শরীফ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি ছুরি উদ্ধার করা হয়। একই দিন রাতে সুলতানপুর এলাকা থেকে রিমা আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে নিহত জাহানারা বেগমের ব্যবহৃত কাপড় ও জুতা উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া পলাতক আসামি জোবায়ের হোসেন ওরফে হৃদয়ের রক্তমাখা জিন্স প্যান্টও উদ্ধার করেছে পুলিশ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ জানান, আসামিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই জাহানারা বেগমকে সিএনজিতে তোলা হয়েছিল। গ্রেপ্তার রিমা আক্তারের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা, বাদশাহর বিরুদ্ধে দুটি মাদক মামলা, শরীফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন ও মাদকসহ সাতটি মামলা রয়েছে। এছাড়া পলাতক আসামি জোবায়ের হোসেন হৃদয়ের বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, ধর্ষণ ও মানবপাচার আইনে সাতটি মামলা রয়েছে।

গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন বলে পুলিশ জানায়।