রাজধানীর রামপুরায় কুরআন ইন্টারন্যাশনাল হিফজ মাদ্রাসায় এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের পর বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযুক্ত শিহাব হোসেনের (১৯) বিরুদ্ধে এ ধরণের একাধিক অভিযোগ পাওয়ার পরও কোনো ব্যবস্থা নেননি প্রতিষ্ঠানটি। তবে প্রধান শিক্ষককের দাবি, তাকে মৌখিকভাবে সর্তক করা হয়।
পুলিশ বলছে, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বনশ্রী সি-ব্লকের তিন নম্বর রোডে ‘কুরআন ইন্টারন্যাশনাল হিফজ মাদ্রাসার’ তৃতীয় তলা থেকে উদ্ধার করা হয় আব্দুল্লাহর মরদেহ। ওই প্রতিষ্ঠানে তার সিনিয়রের কাছে বলৎকারের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার বিস্তারিত জানা যাবে।
বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানান, গত ১৯ মে রাতে ওই শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) মর্গে পাঠানো হয়। সুরতহাল তৈরির সময় পুলিশ এমন আলামত দেখতে পায়, যা ইঙ্গিত দেয় যে শিশুটি অস্বাভাবিক যৌনাচারের শিকার হয়েছিল।
ওই ঘটনায় করা মামলার আসামি শিহাব হোসেনকে (১৯) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার শিহাব রামপুরার একই মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। মৃত আব্দুল্লার চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার অনুপনগর গ্রামের আবুল কালাম আজাদ ও মা টুকু আরা খাতুনের ছেলে। সে পরিবারের সাথে ঢাকায় থাকত।
তিনি জানান, ওই ঘটনায় শিশুটির মা টুকু আরা খাতুন রামপুরা থানায় শিহাবের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ নিয়ে আসা হয়।
পুলিশ কর্মকর্তা হারুন অর রশীদ জানান, শিশুর লাশ উদ্ধারের আগেই শিহাব মাদ্রাসা ছেড়ে চলে যান।
পরে রামপুরা থানার পুলিশের একটি দল পাবনার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় মাদ্রাসার দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে শিহাবের বিরুদ্ধে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীর সঙ্গে অস্বাভাবিক যৌনাচারের অভিযোগ ছিল বলে শিকার করেন।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল মামুন দেশ রূপান্তরকে বলেন, অভিযুক্ত শিহাবের পরিবার তার বয়স গোপন করে এখানে ভর্তি করান। মৃত আব্দুল্লাহ ও অভিযুক্ত শিহাব মাদ্রসার হিফজ বিভাগে পড়ত। তার বিরুদ্ধে রমজান মাসে এক শিক্ষার্থীকে কু-প্রস্তাব ও গোপন অঙ্গে স্পর্শ করার অভিযোগ করে। তবে আব্দুল্লাহ কখনও এমন ধরণের কোনো অভিযোগ করেনি।
এছাড়া এর আগেও এমন অভিযোগ আসে আরও কয়েকটি। এসব বিষয়ে তাকে মৌখিকভাবে সর্তক করা হয়। এমনকি বিষয়টি তার পরিবার কেউ জানানো হয়।
তিনি জানান, মাদ্রাসায় তিনিসহ পাঁচজন শিক্ষক, দুইজন স্টাফ এবং ৫৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। তবে কেউই তেমন কিছুই বলতে পারেনি। এদের মধ্যে কয়েকজন শিক্ষার্থী শিহাবের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছেও এমন তথ্য দিয়েছে। ঘটনার দিন বিকেলে অভিযুক্ত শিহাব ছুটি নিয়ে মাদ্রাসা থেকে বেরিয়ে গেছে। এরপর থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তার বাড়িতেও তার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে।
ডিএমপির রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, শিশুর মা সন্দেহ করছেন, তার ছেলে ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ কারণে আত্মহত্যা করেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এছাড়া ওই ঘটনায় গ্রেপ্তার অভিযুক্ত শিক্ষার্থী শিহাবকে আদালতে নিয়ে রিমান্ড আবেদন করা হয়। পরে শুনানি শেষে আদালত তার পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেছে। এই ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত কী না তা জানতে তদন্ত চলছে।