সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়

হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের শুনানি ৯ জুন 

তিন মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক ও স্বাধীন সচিবালয়ের নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের শুনানির জন্য আগামী ৯ জুন দিন ধার্য হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব এ দিন ধার্য করেন।

এর আগে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে। এতে আপিল নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। চেম্বার আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনিক আর হক। রিটকারীপক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। 

অধস্তন আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতিদান ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) শৃঙ্খলা বিধান রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত থাকবে- সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের এমন বিধান বাতিল করে হাইকোর্টের দেওয়া ৮ মাস আগের পূর্ণাঙ্গ  রায় গত ৭ এপ্রিল প্রকাশিত হয়। ১৮৫ পৃষ্ঠার এ রায়ে হাইকোর্ট বলে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে দ্বৈত-শাসন নীতি চলতে পারে না। অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ থাকবে সুপ্রিম কোর্টের হাতে। এজন্য একটি পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট, অবকাঠামো ও লোকবলের ব্যবস্থা করতে হবে।  

সুপ্রিম কোর্টের আলাদা সচিবালয় প্রতিষ্ঠার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গত বছরের ৩০ নভেম্বর ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়। পরে সুপ্রিম কোর্টের একটি ভবনে সচিবালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়। গত মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত করে এর সিনিয়র সচিব শেখ আশফাকুর রহমানসহ ১৫ জন কর্মকর্তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে ফেরত নেওয়া হয়। ওই কর্মকর্তাদের আইন মন্ত্রণালয়ে যোগ দেওয়ার তারিখ দেখানো হয় ১০ এপ্রিল।

এর আগের দিন ৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়। সরকারের এমন সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেছে সংসদ বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমর্থিত আইনজীবীদের সংগঠন ন্যাশনাল ল’ ইয়ার্স অ্যালায়েন্স (এনএলএ), ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (ডাকসু)।