কঙ্গো-উগান্ডায় ইবোলায় আক্রান্ত ৬০০, মৃত্যু ১৩৯

দশ বছর পর আবারও আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ইবোলা ভাইরাস। ২০১৬ সালের মার্চে আনুষ্ঠানিকভাবে এই মহামারীর সমাপ্তি ঘোষণা করেছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এর ঠিক এক দশক পর আবারও এই ভাইরাসের জন্য জারি হলো বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা। ইতিমধ্যে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র ও উগান্ডায় সন্দেহভাজন ইবোলা আক্রান্তের সংখ্যা ৬০০ ছাড়িয়েছে; এখন পর্যন্ত সন্দেহভাজন ১৩৯ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। গত বুধবার জেনেভায় ডব্লিউএইচওর জরুরি কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক তেদ্রোরোস আধানম গেব্রিয়াসেস। তিনি জানান, ডব্লিউএইচও জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে এই মহামারীর ঝুঁকিকে উচ্চ হিসেবে মূল্যায়ন করছে। তবে বৈশ্বিক পর্যায়ে ঝুঁঁকি কম।

একই সংবাদ সম্মেলনে ডব্লিউএইচওর জরুরি বিভাগের প্রধান চিকউই ইহেকইয়াজু বলেন, সংস্থাটির এ মুহূর্তের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হলো বিদ্যমান সব সংক্রমণ শৃঙ্খল শনাক্ত করা। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে আমরা প্রাদুর্ভাবের প্রকৃত ব্যাপ্তি নির্ধারণ করতে পারব এবং আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা দিতে সক্ষম হব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ইবোলার বুন্ডিবুগিও ধরনটির বিরুদ্ধে কার্যকর টিকা তৈরি হতে আরও ৯ মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। পাশাপাশি ভাইরাসটি শনাক্ত করতে বেশি সময় লাগার কারণে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ডব্লিউএইচও। সংস্থাটির উপদেষ্টা ডা. ভাসি মূর্তি গত বুধবার জানান, বুন্ডিবুগিও ধরনের ইবোলার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য দুটি টিকা তৈরি করা হচ্ছে। তবে এখনো সেগুলোর কোনোটিই ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

গত রবিবার ডব্লিউএইচও ইবোলা প্রাদুর্ভাবকে বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করে। তবে এটি প্যান্ডেমিক বা বৈশ্বিক মহামারী পর্যায়ে নেই বলে জানানো হয়। কঙ্গো ও উগান্ডার স্বাস্থ্য কর্র্তৃপক্ষ বলছে, এই ধরনের বিরুদ্ধে এখনো কোনো কার্যকর টিকা বা চিকিৎসা নেই। ৬০০টি সন্দেহভাজন সংক্রমণের মধ্যে ৫১টি ইতিমধ্যে নিশ্চিত হয়েছে বলে জানিয়েছে ডব্লিউএইচও। আক্রান্তদের অবস্থান কঙ্গোর উত্তরাঞ্চলের ইতুরি ও নর্থ কিভু প্রদেশে। উগান্ডাও রাজধানী কাম্পালায় দুইটি সংক্রমণ নিশ্চিত করেছে। আক্রান্ত দুই ব্যক্তি কঙ্গো থেকে উগান্ডায় গিয়েছিলেন; তাদের মধ্যে একজন মারা গেছেন। ডব্লিউএইচও প্রধান বলেন, আমরা জানি কঙ্গোয় এই প্রাদুর্ভাবের পরিধি আরও অনেক বড়। তিনি জানান, মৃতদের মধ্যে স্বাস্থ্যকর্মীরাও রয়েছেন, যা বিশেষ উদ্বেগের বিষয়। ডব্লিউএইচওর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভাইরাসটি কতদিন ধরে ছড়াচ্ছে তা খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে, তবে তাদের অগ্রাধিকার হচ্ছে এর সংক্রমণ রোধ করা। গত ২৪ এপ্রিল ইতুরির প্রাদেশিক রাজধানী বুনিয়ায় প্রথম মারা যাওয়া রোগী হিসেবে একজন নার্সের লক্ষণ দেখা দেয় এবং তিনি মারা যান। ইতুরির মংওয়ালু, বুনিয়া, রওয়ামপারা এবং নিয়াকুন্দে এই প্রাদুর্ভাবের কবলে পড়েছে।