রাজধানী ঢাকার বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের (শিশু হাসপাতাল) আইসিইউতে চিকিৎসাধীন হামে আক্রান্ত সাত মাস বয়সী সেই শিশুটির বাবা ভ্যানচালক আসলাম দাড়িয়ার পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি শিশুটির চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার ঢাকা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম এ কথা জানিয়েছেন।
গত মঙ্গলবার দেশ রূপান্তর পত্রিকায় ‘আইসিইউর দরজায় পঙ্গু ভ্যানচালক’ শিরোনামের সংবাদ প্রকাশ হলে তা নজরে আসে প্রধানমন্ত্রীর। এরপরই তিনি জেলা প্রশাসককে শিশুটির চিকিৎসার ভার নেওয়ার নির্দেশ দেন।
দেশ রূপান্তর পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে হামে আক্রান্ত আইসিইউতে চিকিৎসাধীন মো. তাজিম দাড়িয়াকে নিয়ে ভ্যানচালক বাবা পঙ্গু আসলাম দাড়িয়ার প্রাণপণ লড়াইয়ের বর্ণনা উঠে আসে। আইসিইউর বাইরে দরজার পাশে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা নিয়ে ফ্লোরে বসে থাকা হতদরিদ্র আসলাম দাড়িয়ার সঙ্গে কথা বলেন এ প্রতিবেদক। গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার মাঝবাড়ি গ্রামের আসলাম জানান, ছেলেকে বাঁচানোর চেষ্টায় ইতিমধ্যে সঞ্চয়ের ভাণ্ডার শেষ হয়ে গেছে তার। আরও টাকা লাগলে রোজগারের শেষ সম্বল ভ্যানটাও বিক্রি করতে রাজি তিনি, তবু তার ছেলে বেঁচে থাকুক এটাই তার একমাত্র মনস্কামনা।
গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসকের পরামর্শে আগের দিন রবিবার হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকার শিশু হাসপাতালে তাজিমকে ভর্তি করা হয়। এরপর থেকে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটের (আইসিইউ) দরজায় সামনে ঠাঁই বসে থাকেন আসলাম দাড়িয়া। আসলাম বলেন, ‘গত দুদিনে ৩০ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়ে গেছে। আমি তো পঙ্গু মানুষ, ব্যাটারির ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাই। আমার সন্তানকে বাঁচান। টাকা দেব। আমি ভ্যান বিক্রি করে দেব। স্যার আমি নিঃস্ব, আমার কিছুই নেই। আছে শুধু পরিবার, ছেলেমেয়ে।’
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে তাজিমকে দেখতে যান জেলা প্রশাসক ও ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম। তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘অটোভ্যানচালক আসলাম টাকার অভাবে ছেলের চিকিৎসা করাতে পারছিলেন না। ছেলেকে বাড়ি ফিরিয়ে নিতে চেয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে জেলা প্রশাসন ওই ভ্যানচালকের ছেলের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে।