দুই বছরেও শুরু হয়নি শিশু রিয়া হত্যার বিচার

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২৬, ০২:৫০ এএম

নারায়ণগঞ্জ শহরের নয়ামাটি এলাকার বাসিন্দা দীপক ও বিউটি দম্পতির একমাত্র সন্তান ছিল ৬ বছর বয়সী রিয়া গোপ। তাকে নিয়ে বাবা-মায়ের চোখে ছিল অনেক স্বপ্ন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উত্তাল সময়ে নিজের বাসার ছাদে খেলতে খেলতেই একটি গুলি কেড়ে নেয় তার জীবন, মৃত্যু ঘটে একটি পরিবারের স্বপ্নের। আলোচিত সেই হত্যাকা-ের ২ বছর পার হলেও থামছে না রিয়ার পরিবারের কান্না।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের একটি হোসিয়ারি কারখানায় কাজ করেন বাবা দীপক কুমার গোপ। মা বিউট ঘোষ গৃহবধূ। স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিল রিয়া। পড়াশোনায় ভালো ছিল, খেলাধুলা আর হাসিখুশিতে ছিল দুরন্ত। সীমিত আয়ের সংসারে একমাত্র রিয়াকে ঘিরেই ছিল বাবা-মায়ের সব স্বপ্ন, সব ভালোবাসা। পরিবারের একমাত্র সন্তানকে ঘিরে ভবিষ্যতের যে স্বপ্ন তারা বুনেছিলেন, তা মুহূর্তেই রক্তাক্ত হয়ে যায়। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেল ৬টা ২০ মিনিটে শহরের ডিআইটি গুলশান হলের পেছনে ২৭ নয়ামাটি এলাকার ৫ তলা বাড়ির ছাদে রিয়া খেলা করছিল। নিচে শহরের রাস্তায় ছিল উত্তপ্ত আন্দোলন। গোলাগুলির শব্দ শুনে রিয়াকে আনতে ছাদে যান তার বাবা। কিন্তু এর আগেই রিয়ার মাথার পেছনে গুলি লাগে। রিয়াকে তাৎক্ষণিক গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের পর ৫ দিন সে বেঁচে ছিল। ২৪ জুলাই চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর কারণ হিসেবে লেখা হয় : ‘গানশট ইনজুরি’। রিয়ার মৃত্যু দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। তার মৃত্যুর খবর শুধু একটি পরিবারকেই নয়, কাঁদিয়েছিল পুরো দেশবাসীকেও। রিয়া হত্যাকা-ের পরে নিহতের পরিবার থেকে কোনো মামলা দায়ের হয়নি। পরে ২০২৫ সালের ১ জুলাই রাতে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার এসআই আবু রায়হান বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন।

গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক তরিকুল সুজন জানান, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই সাবেক এমপি শামীম ওসমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের শত শত নেতাকর্মী হাতে অত্যাধুনিক অস্ত্র নিয়ে শহরের ডিআইটি এলাকা থেকে নয়ামাটির দিকে গুলি ছুড়তে ছুড়তে অগ্রসর হয়েছিল। তাদের গুলিতেই রিয়া গোপের মৃত্যু হয়েছে।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘ছোট্ট শিশু রিয়া গোপ কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি ছিল না। আমরা বিশ্বাস করি, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে রিয়ার পরিবার কিছুটা হলেও সান্ত¡না পাবে। কোনো নিরপরাধ মানুষের মৃত্যু, বিশেষ করে একটি শিশুর মৃত্যু, কখনোই অমার্জনীয় হতে পারে না।’

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জজকোর্টের পিপি আবুল কালাম আজাদ বলেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং ভুক্তভোগী পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

রিয়া গোপের গল্প কেবল একটি হত্যাকা-ের নয়; এটি একটি অসমাপ্ত শৈশবের গল্প, একটি পরিবারের আজীবনের কান্না, আর ন্যায়বিচারের দীর্ঘ প্রতীক্ষার গল্প।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত