সৌদি ও আমিরাতের নিরাপত্তা রক্ষায় দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ইরাকের

সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে লক্ষ্য করে চালানো ড্রোন হামলার তদন্ত শেষ হলে তার ফলাফল জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে ইরাক। একই সঙ্গে দেশটির সেনাবাহিনী বলেছে, 'ভাইদের নিরাপত্তায় কোনো ছাড় নয়'। 

শুক্রবার (২২ মে) ইরাকি সেনাপ্রধানের মুখপাত্র সাবাহ আল নুমান এ কথা বলেন। ইরাকি সংবাদ সংস্থা জানায়, প্রধানমন্ত্রী আলি আল জাইদি গঠিত বিশেষ তদন্ত কমিটি সৌদি আরব ও আমিরাতে হামলার ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখছে।

আল-নুমান বলেন, এটি গোয়েন্দা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতাসম্পন্ন উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি। তারা সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় করে তথ্য, অপরাধসংক্রান্ত আলামত এবং রাডার তথ্য বিশ্লেষণ করছে। 

তিনি বলেন, 'তদন্ত অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে, যাতে পুরো সত্য উদঘাটন করা যায়।' তদন্ত শেষ হলে কমিটি সর্বাধিনায়ক ও জনগণের সামনে পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে ফলাফল উপস্থাপন করবে বলেও জানান তিনি।

ইরাকি সেনাবাহিনীর এই মুখপাত্র আরও বলেন, 'ইরাকের সরকারি অবস্থান স্পষ্ট, আমাদের ভাইদের নিরাপত্তা লাল রেখা এবং আইনের শাসনের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় নেই।' 

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে শুধু আইনি ব্যবস্থা নয়, সশস্ত্র বাহিনী এটিকে ইরাকের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি এবং সার্বভৌমত্বের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করবে।

আল-নুমান বলেন, রাষ্ট্র তার সার্বভৌম সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনো অবস্থান মেনে নেবে না। কেউ জড়িত প্রমাণিত হলে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সামরিক আইনের আওতায় তাকে পূর্ণ আইনি ও সামরিক পরিণতি ভোগ করতে হবে।

তিনি জানান, বর্তমানে দুটি সমান্তরাল পথে কাজ চলছে। একটি হলো দেশের ভেতরে আইনের শাসন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অন্যটি সীমান্ত ও আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখা, যাতে কোনো অবৈধ গোষ্ঠী তা ব্যবহার করতে না পারে। তিনি আরও বলেন, সরকারের সফলতার মূল মানদণ্ড হলো রাষ্ট্রকেই একমাত্র শক্তি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।