মাছ উঠে পাহাড় বেয়ে

পৃথিবীতে পায় ৩৪,০০০ প্রজাতির মাছ রয়েছে। যা উভচর, সরীসৃপ, পাখি ও স্তন্যপায়ী প্রাণীর মোট প্রজাতির চেয়েও বেশি। কিছু মাছকে বলা হয় উড়ন্ত মাছ। তারা পানির ওপর লাফ দিয়ে, পাখনা মেলে দীর্ঘ পথ উড়ে যেতে পারে। অন্যদিকে সমুদ্রের হাজার ফুট গভীরে যেখানে সূর্যের আলো পৌঁছায় না, সেখানে কিছু মাছের শরীরে নিজস্ব আলো তৈরি করার ক্ষমতা থাকে। মাছ সাধারণত ফুলকার সাহায্যে শ্বাস নেয়। কিন্তু লাংফিশ ফুলকার পাশাপাশি ফুসফুস দিয়ে বাতাস থেকে শ^াস নিতে পারে। অবাক বিষয় হচ্ছে, কিছু মাছ জীবনের নির্দিষ্ট সময় পর লিঙ্গ পরিবর্তন করতে সক্ষম (যেমন- ক্লাউনফিশ)। আবার কিছু মাছের পাহাড়ের খাঁজ বেয়ে ওঠার জন্য বিশেষ অভিযোজন ঘটেছে। সম্প্রতি আমেরিকার জিওলজিক্যাল সার্ভের গবেষক টিম গ্র্যাবোস্কি একটি মাছের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। হাওয়াই দ্বীপের হামাকুয়া উপত্যকায় দেখা মেলে এই অদ্ভুত মাছের। স্থানীয় ভাষায় তার নাম ও-ওপু। হামাকুয়া উপত্যকার অন্তত ৫০ মাইল জলস্রোতে এই মাছেদের দেখা যায় বলে জানিয়েছেন তিনি। বেশির ভাগ জলপপাতের মধ্যে টিকে থাকার মতো করে অভিযোজিত হয়েছে ও-ওপু। প্রয়োজনে জল ছেড়ে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে কয়েক মিটার উঠে যেতে পারে এরা। যদিও ক্রমে এই ব্যতিক্রমী মাছের সংখ্যা কমে আসছে বলে জানিয়েছেন টিম। আর তার জন্য দায়ী অবশ্যই পরিবেশ দূষণ। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে প্রকৃতির বুক থেকে হারিয়ে যাবে বিস্ময়কর এই মাছ।