ডা. জাহেদ পারভেজ
সহকারী অধ্যাপক
ত্বক, চর্ম, যৌন ও ট্রান্সপ্ল্যান্ট সার্জারি বিভাগ
শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল, ঢাকা।
কোরবানি ঈদ মানেই গরুর মাংসের নানা পদ আর ভোজনের আয়োজন। তবে সবার জন্য এই আনন্দ সমান স্বস্তির নয়। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে গরুর মাংস খাওয়ার পর দেখা দিতে পারে অ্যালার্জি, ত্বকে চুলকানি, শ্বাসকষ্ট কিংবা হজমজনিত সমস্যা। তাই উৎসবের আনন্দে সচেতন থাকাও জরুরি। ঈদে তো মাংস খেতেই হয়। তবে মাংস খেলেই যদি আপনার দেহে অ্যালার্জির সৃষ্টি হয়, গায়ে র্যাশ হয় কিংবা নাক বন্ধ হয়ে আসে তাহলে বুঝে নেবেন মাংসতেই আপনার অ্যালার্জি রয়েছে। অনেকেরই বিভিন্ন প্রাণীর মাংস বিশেষ করে গরুর মাংস খেলে অ্যালার্জি হয়ে থাকে। কোরবানির সময় বেশি পরিমাণ মাংস খাওয়া হয় বলে এ সময় অ্যালার্জি প্রকট আকার ধারণ করে। মাংসতে অ্যালার্জি হওয়ার কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই। যেকোনো বয়সেই এ সমস্যা দেখা দিতে পারে। আবার নির্দিষ্ট প্রাণীর মাংসতে অ্যালার্জি থাকলে, পরবর্তী সময়ে অন্য প্রাণীর মাংসতেও অ্যালার্জি হতে পারে। কারও হয়তো গরুর মাংস খেলে অ্যালার্জি হয়, পরবর্তী সময়ে তা মুরগি, হাঁস বা ছাগলের মাংস খেলেও হতে পারে।
লক্ষণ
ত্বকে র্যাশ বা ফুঁসকুড়ি হওয়া, পেটে ব্যথা ও বদহজম হওয়া, বমি-বমি ভাব হওয়া, ডায়েরিয়া, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, মাত্রাতিরিক্ত হাঁচি, মাথা ব্যথা, হাঁপানি অনেকের অ্যালার্জির সমস্যা ভয়াবহ হলে শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়।
মাংসে অ্যালার্জির ফলে দেহে কী ঘটে?
মাংসে অ্যালার্জি রয়েছে এমন ব্যক্তি মাংস খেলে শরীর ক্ষতিকর বস্তু হিসেবে গ্রহণ করে। ব্যক্তি প্রথমবার মাংস খেলে দেহের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থায় বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং এই ক্ষতিকর বস্তুকে বাধা দিতে দেহ ইমিউনোগ্লোবিন (ওমঊ) নামের নির্দিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিক ছড়িয়ে দেয়। এই অ্যান্টিবায়োটিকস দেহের ইমিউন কোষের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। এরপর যতবারই মাংস খাওয়া হয় ততবার ইমিউনোগ্লোবিন অ্যান্টিবায়োটিক দেহকে রক্ষা করতে প্রচুর পরিমাণে হিস্টামিন ও অন্যান্য কেমিক্যাল ছড়িয়ে দেয়। এসব কেমিক্যালের প্রভাবে দেহে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় যার মধ্যে অ্যালার্জি একটি।
রোগ নির্ণয়
মাংসে অ্যালার্জি হওয়ার লক্ষণ ব্যক্তিভেদে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। একেকজন ব্যক্তি একেক ধরনের লক্ষণের সম্মুখীন হয়ে থাকেন। কারও খাবারে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়াগুলো ত্বক, শ্বাসযন্ত্রের ট্র্যাক্ট, গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ট্র্যাফ্ট এবং কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেমকে প্রভাবিত করতে পারে। মাংস খাওয়ার ফলে অ্যালার্জি হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। চিকিৎসকের কাছে গেলে আপনাকে যে প্রশ্নগুলোর সম্মুখীন হতে হবে তা হলো কোন প্রাণীর মাংস খেলে অ্যালার্জি হয়? কতদিন ধরে লক্ষণগুলো দেখছেন? কী কী লক্ষণ দেখা দেয় এবং কতটা সময় স্থায়ী হয় ইত্যাদি।
প্রতিকার ও চিকিৎসা
মাংসের কারণে অ্যালার্জি হলে তা প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হচ্ছে ওই নির্দিষ্ট প্রাণীর মাংস পরিহার করা। যদি অ্যালার্জির পরিমাণ কম হয় তবে নির্দিষ্ট পরিমাণ মাংস খেতে পারেন তবে যদি মাংস খাওয়ার ফলে দেহে মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা থাকে তবে এড়িয়ে যাওয়াই উত্তম। মাংস খাওয়ার ফলে অ্যালার্জি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নির্দিষ্ট ওষুধ সেবন করুন। তখন অ্যালার্জিও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।