প্রফেসর ডা. মো. ইমনুল ইসলাম ইমন
শিশু বিশেষজ্ঞ, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
ঈদে শিশুদের নিয়ে বাড়ি যাওয়ার সময় অনেক বেশি বিড়ম্বনার শিকার হয় মা-বাবা। যদি শিশুর মোসন সিকনেস তৈরি হয়। শিশুর মোশন সিকনেস বা যাত্রাজনিত অস্বস্তি হলো এমন একটি শারীরিক অবস্থা, যেখানে গাড়ি, নৌকা বা বিমানে চলাচলের সময় শিশুর মস্তিষ্ক ও শরীরের ভারসাম্য ব্যবস্থায় বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। এতে বমিভাব, মাথা ঘোরা, ঘাম, ক্লান্তি বা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। সাধারণত ছোট শিশুদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়, কারণ তাদের ভেস্টিবুলার সিস্টেম এখনো পুরোপুরি বিকশিত নয়। দীর্ঘ ভ্রমণ বা ঘন ঘন বাঁক নেওয়া রাস্তা এই সমস্যা বাড়াতে পারে। সঠিক যতœ, ভ্রমণের আগে হালকা খাবার এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম এই সমস্যা অনেকটা কমাতে সাহায্য করে। এ জন্য বাস, ট্রেন, বিমান যেকোনো ভ্রমণেই শিশুদের এমন জায়গায় বসাতে হবে, যেন তারা বিশুদ্ধ বাতাস পায়। বের হওয়ার আগে শিশুকে একদম খালি পেটে না রেখে হালকা কিছু খাবার খাইয়ে দিলে ভালো।
কখন হয়
সাধারণত ২-১২ বছর বয়সী শিশুদের মোশন সিকনেস বেশি হয়। তবে যেকোনো বয়সেও এটি হতে পারে। কিছু শিশুর মস্তিষ্ক অন্যদের তুলনায় বেশি সংবেদনশীল থাকে বলে মোশন সিকনেসের ঘটনা তাদের বেলায় বেশি ঘটে। নৌকা, ট্রেন, বাস, বিমান ছাড়াও শিশু যদি প্রচ- বাতাসযুক্ত এলাকায় বা পানিতে প্রথম নামে তখনো এ সমস্যা হতে পারে। এমনকি দোলনায় কিছুক্ষণ ঝুললেও এই সিকনেস হতে পারে। বেশির ভাগ সময়েই বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ সমস্যাগুলো কমে যায়।
কেন হয়
শিশুর মস্তিষ্ক যখন শরীরের অন্য কোনো অঙ্গ যেমনÑ চোখ, কান, নার্ভ এমনকি হাড় থেকেও বিপরীত কোনো সংকেত পায়, তখনই মোশন সিকনেস শুরু হয়। যেমন চলন্ত গাড়িতে শিশু হয়তো কোনো খেলনার দিকে তাকিয়ে আছে। তখন তার চোখ মস্তিষ্কে সিগন্যাল পাঠাচ্ছে যে শিশু মোশনে নেই। কিন্তু শরীরের অন্য অঙ্গ মস্তিষ্ককে জানান দিচ্ছে, এ মোশনে আছে। অর্থাৎ বিপরীত মেসেজ পাঠিয়ে দেয় মস্তিষ্কে। এই পরস্পরবিরোধী সিগন্যালই মোশন সিকনেসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। গাড়ির এমন ঘটনা ঘটে বিমানে বা নৌকাতেও। উদ্বিগ্নতা বা উৎফুল্লতা থেকেও এ সমস্যা হতে পারে।
মোশন সিকনেসের কারণে শিশু যদি বমি করা শুরু করে অথবা তার অস্বস্তি লাগা শুরু হয়, তবে কয়েকটি পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন।
বমি শুরুর আগে শিশুর হালকা ঘাম হতে পারে অথবা ক্ষুধা কমে যেতে পারে। এমন হলে বুঝবেন শিশুর মোশন সিকনেস হচ্ছে। চেষ্টা করুন তখনই সেটি (যে বাহনে চড়েছেন) বন্ধ করে দিতে। গাড়ি চালানোর সময় এমন হলে গাড়ি থামিয়ে দিন। বিমানে হলে চেষ্টা করুন শিশুকে হাত-মুখ ধুইয়ে ঘুম পাড়াতে।
শিশু যন য!থষ্ট বাতাস পায় সই ব্যব¯া করুন।
ম!না!যাগ ভিনঝ দিকে নেওয়ার চেষ্টা করুন। অনেক সময় গল্প করলে বা গান করতে করতে ভ্রমণ করলে এমন সমস্যা হয় না। বই বা খেলনা-জাতীয় জিনিস যাত্রাপথে শিশুর হাতে দেবেন না।
ক্ষুধার কারণে অনেক সময় বমিভাব হতে পারে। তাই ভ্রমণে হালকা কিছু খাবার সবসময় সঙ্গে রাখুন।
ভ্রমণের সময় এমনভাবে ঠিক করুন যেন তখন শিশু ঘুমাতে পারে। যতক্ষণ সে ঘুমিয়ে থাকবে ততক্ষণ তার মোশন সিকনেস হবে না অথবা জেগে গেলেও ক্লান্ত লাগবে না।