বিদেশ ফেরত ইব্রাহিমের সফলতা

কোটি টাকার খামারে কোরবানির জন্য প্রস্তুত ৩০ মণের গরু

দক্ষিণ কোরিয়ায় দীর্ঘদিন প্রবাস জীবন কাটিয়ে দেশে ফিরে ভিন্ন এক স্বপ্ন বুনেছেন পটুয়াখালীর সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের ইব্রাহিম বিশ্বাস। বিদেশের চাকরি ছেড়ে তিনি গড়ে তুলেছেন আধুনিক গরুর খামার। মাত্র তিনটি গরু দিয়ে যাত্রা শুরু করা সেই খামারে এখন রয়েছে ৫০টিরও বেশি গরু।

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে তার খামারে প্রস্তুত করা হয়েছে ১০ থেকে ১২টি বড় আকৃতির কোরবানির গরু। প্রতিটির ওজন প্রায় ২৫ থেকে ৩০ মণ বলে জানিয়েছেন খামার মালিক।

ইব্রাহিম বিশ্বাস জানান, বিদেশ থেকে ফিরে তিনি কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন। ধীরে ধীরে খামারের পরিধি বাড়তে থাকে। বর্তমানে তার খামারে পাঁচজন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করছেন।

তিনি বলেন, প্রতিদিন গরুর খাবারের পেছনে প্রায় ১৫ হাজার টাকার বেশি ব্যয় হয়। তবে গরু মোটাতাজাকরণে কোনো ধরনের ক্ষতিকর ইনজেকশন ব্যবহার করা হয় না। দেশীয় ও প্রাকৃতিক খাদ্য দিয়েই গরুগুলো লালন-পালন করা হচ্ছে। খামারের অধিকাংশ খাদ্য নিজস্ব জমিতে উৎপাদন করা হয়।

খামারটিতে বর্তমানে প্রায় তিন কোটি টাকার গরু রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এছাড়া ১০টির বেশি গাভী থেকে প্রতিদিন দুধ সংগ্রহ করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে।

খামারের কর্মচারী নজরুল মিয়া বলেন, দুই বছর ধরে এখানে কাজ করছি। খামারে উৎপাদিত দুধ বাজারে বিক্রি করা হয়। আবার নিজেরাই ঘাস উৎপাদন করে গরুকে খাওয়াই। এই খামারের কারণে আমাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোখলেছ মিয়া বলেন, বিদেশ থেকে ফিরে ইব্রাহিম বিশ্বাস যে উদ্যোগ নিয়েছেন, সেটা এলাকার জন্য উদাহরণ। অনেক পরিশ্রম করে তিনি গরুগুলো বড় করেছেন।

স্থানীয়দের কাছেও খামারটি এখন বেশ পরিচিত হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ বড় আকৃতির গরু দেখতে খামারে ভিড় করছেন।

পটুয়াখালী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বলেন, বিদেশ ফেরত উদ্যোক্তারা প্রাণিসম্পদ খাতে বিনিয়োগ করলে স্থানীয় অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। খামারিদের নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা দিচ্ছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ।