বাবার হত্যার বিচার চেয়ে রাস্তায় দুই শিশুর বুকভাঙা কান্না

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩০ পিএম

আমার বাবাকে যারা মেরে ফেলেছে, আমি তাদের বিচার চাই। আমি আর কোনোদিন আমার বাবাকে দেখতে পারব না। "কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিল নয় বছর বয়সী হামিদা। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মাদরাসাপড়ুয়া ভাই ইসমাইলও বাবার হত্যার বিচার দাবি করে অঝোরে কাঁদছিল। শিশু দুই সন্তানের এমন আহাজারিতে মানববন্ধনে উপস্থিত মানুষের চোখেও জল নেমে আসে।

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় ট্রাকচালক আবু হানিফ ফকির হত্যা মামলার আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রবিবার (১৯ জুলাই) সকাল ১০টায় কুয়াকাটা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পটুয়াখালী আন্তঃজেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়ন এবং বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় শ্রমিক, পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

পরিবার সূত্র জানায়, গত ৮ জুলাই ট্রাকচালক আবু হানিফ ফকির মালামাল আনতে ট্রাক নিয়ে চট্টগ্রামে যান। ট্রাকের সংস্কার কাজের জন্য তার সঙ্গে নগদ প্রায় দুই লাখ টাকা ছিল। অভিযোগ রয়েছে, ওই টাকা থাকার বিষয়টি আগে থেকেই জানতেন ট্রাকের হেলপার বিপ্লব চন্দ্র মণ্ডল।পরদিন ৯ জুলাই রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিএসআরএম ফ্যাক্টরির সামনে একটি ট্রাক পার্কিং এলাকায় ট্রাকের ভেতরে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় আবু হানিফকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে হেলপার বিপ্লব চন্দ্র মণ্ডল। একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে তার সঙ্গে থাকা নগদ দুই লাখ টাকা, একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনসহ প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত। পাশে থাকা অপর একটি ট্রাকের চালক গুরুতর আহত আবু হানিফকে দেখতে পেয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ১৫ জুলাই তিনি মারা যান। 

এ ঘটনায় নিহতের ভাই মো. বেল্লাল বাদী হয়ে চট্টগ্রামের আকবরশাহ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। নিহত আবু হানিফ ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার মৃত্যুর পর স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে নিয়ে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

মানববন্ধনে নিহতের ছেলে ইসমাইল বলেছেন, আমার বাবার সঙ্গে কারোর কোনো শত্রুতা ছিল না, কোন কারন ছাড়াই আমার বাবাকে শুধুমাত্র টাকার জন্য হত্যা করা হয়েছে। আমি আমার বাবার হত্যার বিচার চাই ।

বক্তারা বলেন, এটি অত্যন্ত নৃশংস ও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। দ্রুত আসামিকে গ্রেপ্তার করে আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা না হলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা আরও বাড়বে।

আলিপুর-কুয়াকাটা শ্রমিক কল্যাণ কর্মসেবা সংস্থার সভাপতি খলিল মুসুল্লি বলেছেন, খুনি বিপ্লব মণ্ডলকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে এমন শাস্তি দিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অপরাধ করার সাহস না পায়। পাশাপাশি নিহতের স্ত্রী-সন্তানদের জন্য সরকারের বিশেষ সহায়তা কামনা করছি।

মহিপুর থানা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ বলেছেন, খুনিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা না হলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হব।

মানববন্ধন শেষে বক্তারা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, পলাতক আসামির দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে নিহতের পরিবারের নিরাপত্তা ও আর্থিক সহায়তার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে চট্টগ্রামের আকবরশাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, নিহতের ভাই বাদী হয়ে মামলা করেছেন। এ ঘটনায় একজনই অভিযুক্ত। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন এবং আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত ও অভিযান পরিচালনা করছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত