ইতিহাস বদলে দেওয়ার চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের

গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডকে হারানোর পর মাঠেই কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন নিগার সুলতানা জ্যোতি। ১০ বছর আর ১৬ ম্যাচের খরা কাটানোর সেই আবেগঘন মুহূর্ত হয়তো এখনো দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের চোখে ভাসছে। তবে সেই আনন্দের স্থায়িত্ব ছিল বড্ড কম; পরের তিন ম্যাচ হেরে শূন্য হাতেই বিদায় নিতে হয়েছিল টাইগ্রেসদের।

আইসিসি উইমেন’স টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ছয় আসরে ২৫ ম্যাচ খেলে বাংলাদেশের জয় মোটে তিনটি। তবে অতীত ইতিহাসের সেই মলিন খতিয়ান এবার পুরোপুরি বদলে দিতে চান অধিনায়ক নিগার সুলতানা। আগামী জুনে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে কেবল অংশ নেওয়া নয়, এক আসরেই অন্তত তিনটি ম্যাচ জেতার লক্ষ্য বুক বেঁধেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

স্কটল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ এবং এরপর বিশ্বকাপের বিমান ধরার আগে আজ মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে মুখোমুখি হন নিগার সুলতানা। সেখানে অবলীলাক্রমে শোনালেন দলের বড় স্বপ্নের কথা।

বাংলাদেশ অধিনায়কের মতে, অতীতে দল নির্দিষ্ট কিছু খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভরশীল থাকলেও, এবার দলে পারফরমারের সংখ্যা অনেক বেশি। আর এই ধারাবাহিকতাই আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে ড্রেসিংরুমে। নিগার বলেন, গত বিশ্বকাপে দুবাইয়ে আমরা একটি ম্যাচ জিতেছিলাম। এবার আমাদের জয়ের সংখ্যা বাড়িয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। কারণ টি-টোয়েন্টিতে এখন অনেক পারফরমার যোগ হয়েছে, যেটা আগে ছিল না। ক্রিকেটারদের ভেতর সেই ক্ষুধাটা আছে যে, বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে আমরা শুধু ভালো খেলতেই নয়, ম্যাচ জিততেও চাই।’

কোন কোন দলের বিপক্ষে জয়ের সুযোগ সবচেয়ে বেশি, তা সুনির্দিষ্ট করেই জানিয়েছেন জ্যোতি। গ্রুপ পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, পাকিস্তান ও নেদারল্যান্ডস। এর মধ্যে তিনটি ম্যাচকে পাখির চোখ করছেন তিনি, ‘যে গ্রুপে আমরা আছি, আমাদের সম্ভাব্য সেরা সুযোগ আছে তিনটি ম্যাচ জয়ের। দুটি ম্যাচে আমাদের অনেক বেশি সুযোগ একটি নেদারল্যান্ডস, আরেকটি পাকিস্তান। এছাড়া ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আমাদের ম্যাচ জয়ের অভিজ্ঞতা আছে। শুরুটা ভালো করে মোমেন্টাম পেয়ে গেলে সেটা আমাদের দারুণ সহায়তা করবে।’

অতীতের টুর্নামেন্টগুলোর আগে পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক ম্যাচ না পাওয়ার আক্ষেপ থাকত নারী দলের। তবে এবার শ্রীলঙ্কা সিরিজ, বিশ্বকাপের আগে স্কটল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ এবং আইসিসির দুটি অফিশিয়াল ওয়ার্ম-আপ ম্যাচ মিলিয়ে প্রস্তুতির কোনো খামতি দেখছেন না অধিনায়ক। নিগার সুলতানার ভাষায়, ‘কম্বিনেশন ঝালিয়ে নেওয়ার জন্য আমাদের যথেষ্ট সময় থাকবে দলে। বড় টুর্নামেন্টের আগে এর চেয়ে আদর্শ প্রস্তুতি আর হতে পারে না।’

বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের এক্সপোজার বা পরিচিতি এখনো কিছুটা কম। বিশ্বজুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতেও খুব একটা সুযোগ মেলে না টাইগ্রেসদের। নিগার মনে করেন, ‘বিশ্বকাপের এই বড় মঞ্চটিই ক্রিকেটারদের ভাগ্য বদলে দিতে পারে, বিশ্বকাপের মতো মঞ্চ সবচেয়ে বড় স্পট লাইট। এখানে ভালো পারফর্ম করলে দল নিয়ে যেমন আলোচনা হয়, তেমনি ব্যক্তিগতভাবে ভালো করলে ক্রিকেটারদের জন্য গ্লোবাল ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতে বিভিন্ন সুযোগ আসে। দলের সবাই বর্তমানে ইতিবাচক মানসিকতায় আছে।’

দলকে বড় স্বপ্ন দেখালেও নিগারের নিজের ব্যাট হাসছে না বেশ কিছুদিন ধরে। দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ব্যাটার হয়েও টি-টোয়েন্টি সুলভ ব্যাটিং করতে না পারার দায়টা নিজের কাঁধেই নিলেন ২৮ বছর বয়সী এই কিপার-ব্যাটার। তবে বিশ্বকাপের আগেই ফর্মে ফিরতে মরিয়া তিনি, ‘পুরো ক্যারিয়ারে যেভাবে ব্যাট করে আসছি, গত কিছুদিনে হয়তো-বা সেটা পারিনি। তবে নিজের ওপর ও টিম ম্যানেজমেন্টের বিশ্বাস আছে। দলের জয়ের জন্য আমার পারফরম্যান্স অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সামনে যে ত্রিদেশীয় সিরিজ আছে, চেষ্টা করব সেখানে নিজেকে আগের রূপে ফিরিয়ে আনতে।’

১১ জুন উত্তর আমেরিকায় শুরু হচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপ। তার পরদিন, ১২ জুন ইংল্যান্ডে পর্দা উঠবে নারী টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট বিশ্বকাপের। তবে মাঠের লড়াইয়ের আগে দুই ধাপে দেশ ছাড়ছে টাইগ্রেসরা। আগামী শনিবার এডিনবরায় ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ বিশ্বকাপ দল

নিগার সুলতানা (অধিনায়ক), নাহিদা আক্তার (সহ-অধিনায়ক), শারমিন আক্তার সুপ্তা, সোবহানা

মোস্তারি, স্বর্ণা আক্তার, রিতু মনি, রাবেয়া খান, ফাহিমা খাতুন, ফারিহা ইসলাম তৃষ্ণা, মারুফা আক্তার, সানজিদা আক্তার মেঘলা, সুলতানা খাতুন, দিলারা আক্তার, জুয়ায়রিয়া ফেরদৌস, তাজ নেহার।