মাদারীপুরে ৬৬ হাজার ৮৮০ পশুর চাহিদার বিপরীতে ৭২ হাজার ৪৯৫ পশু প্রস্তুত

মাদারীপুরে হাটে ক্রেতা-বিক্রেতার জন্য থাকা-খাওয়ার সুযোগসহ সব ধরনের সুবধিা রেখেছে হাট কর্তৃপক্ষ। এদিকে জেলার ৬৬ হাজার ৮৮০ পশুর চাহিদার বিপরীতে ৭২ হাজার ৪৯৫ পশু প্রস্তুত রয়েছে। পশু বিক্রির স্থায়ী ও অস্থায়ী অর্ধশত হাটকে ঘিরে ১৮টি মেডিকেল টিম গঠন করেছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। অপরদিকে পুলিশ বলছে, গরু কিনতে আসা ক্রেতা ও বিক্রেতার নিরাপত্তায় কাজ করছে বাহিনীর সদস্যরা।

কুষ্টিয়ার কুমারখালি বাঁশগ্রামের খামারি মিরাজ খাঁ। মাদারীপুর সদর উপজেলার হবিগঞ্জ পশুরহাটে নিয়েছেন ২৭টি গবাদি পশু। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ, ১৮ মণ ওজনের হলেস্টেইন ফ্রিজিয়ান জাতের গরু। ৪ বছর ধরে পরম যত্নে লালনপালন করা ষাঁড়টির দাম হাঁকাচ্ছেন ৮ লাখ টাকা। প্রতিনিয়তই ক্রেতা ভিড় করছেন সেখানে। দামও উঠেছে সাড়ে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত।

এদিকে ছোট ছোট পিকআপে করে খামার থেকে নিয়ে আসা গরু নামানো হচ্ছে হাটে। রাজাবাবু, রাজকুমার, মহব্বত, নবাব, শাহাজাদাসহ বাহারি নামের গরুতে জেলার বৃহৎ এই হাট এখন কেনাবেচায় জমজমাট। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত পশু কিনতে ভিড় করছেন বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ক্রেতারা। চাহিদা মতো পছন্দের পশু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন কোরবানি দিতে। সাধ্যের মধ্যে দামও থাকায় খুশি তারা।

খামারি মিরাজ খাঁ বলেন, হবিগঞ্জ হাটে কয়েক হাজার পশু উঠেছে। তবে, আমার ১৮ মণ ওজনের হলেস্টেইন ফ্রিজিয়ান জাতের গরুটি সবচেয়ে বড় ও আকর্ষণীয়। আশা করছি দুই একদিনের মধ্যে গরুটি বিক্রি করা সম্ভব হবে। ৮ লাখ টাকা দাম চাইলেও ৬ লাখ বা তার কিছুটা বেশি হলেই বিক্রি করে দেব।

মাদারীপুরের রাতুল নামে এক ক্রেতা বলেন, ১০-১৫টি গরু দেখেছি। দরদাম করে একটি গরু কিনেছি। দাম নিয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। দাম সাধ্যের মধ্যে থাকায় খুশি লাগছে।

মাদারীপুর সদর উপজেলার হবিগঞ্জ পশুরহাটের সাধারণ সম্পাদক রুহুল মিয়া বলেন, জেলার অন্যতম হাট এটি। এই হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি হাট কমিটি ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করছে।

মাদারীপুরের জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শচীন্দ্র নাথ বিশ্বাস জানান, প্রতিটি হাটে খোঁজখবর রাখছে জেলা ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস। মনিটরিংয়ের জন্য ১৮টি টিম কাজ করছে। কোনো প্রাণী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাৎক্ষণিক চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রস্তুতি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারিহা রফিক ভাবনা বলেন, কোরবানির পশুর হাটে জাল টাকা কারবারিকে ধরতে ও মলম পার্টির তৎপরতারোধে সাদা পোশাকেও কাজ করছে পুলিশ। এছাড়া আঞ্চলিক সড়ক ও মহাসড়কে বাড়ানো হয়েছে টহল। যাতে বিক্রেতারা স্বাচ্ছন্দ্যে পশু বিক্রি করে অর্থ নিয়ে ঘরে ফিরতে পারেন।