বগুড়ায় পৃথক দুর্ঘটনায় বাবা-মেয়ে ও মা-মেয়ে নিহত

বগুড়ায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় চারজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৭টায় শাজাহানপুর উপজেলার বনানী এলাকায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে বাবা-মেয়ে ও বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কাহালু উপজেলার বীরকেদার ইউনিয়নের নওগাঁ-বগুড়া আঞ্চলিক মহাসড়কে মা-মেয়ে দুর্ঘটনায় নিহত হন।

জানা যায়, ঈদ উপলক্ষে রংপুর থেকে পরিবার নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে পাবনার উদ্দেশে রওনা দেন ব্র্যাক এনজিওকর্মী আনিসুর রহমান (৩৫)। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে শাজাহানপুরের বনানী এলাকায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে পেছন থেকে অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়েন তারা। এ সময় ঘটনাস্থলে আনিসুর ও তার চার বছরের কন্যা পুষ্প নিহত হয়। এ ঘটনায় গুরুতর আহত আনিসের স্ত্রী আয়েশা বেগম বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বগুড়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

অন্যদিকে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে দুপচাঁচিয়ায় ডাক্তার দেখিয়ে অটোরিকশাযোগে বাড়ি ফিরছিলেন কাজিপাড়া এলাকার বাবুল তালুকদারের স্ত্রী জেসমিন খাতুন (৪৫)  ও তার মেয়ে তনু আক্তার (২০)। কাহালুর বীরকেদার ইউনিয়নের কাজিপাড়া এলাকায় বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কে রাজশাহীগামী এভারগ্রিন পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের অটোরিকশায় ধাক্কায় দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মা-মেয়ে নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অটোরিকশাচালক শাওন মিয়া। তিনি একই এলাকার আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে। কাহালু থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, মা ও মেয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে।

ট্রাকচাপায় বিচারক নিহত : গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ট্রাকচাপায় আউয়াল সরকার (৬০) নামে এক অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ নিহত হয়েছেন। গত রবিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সুন্দরগঞ্জ-রংপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের বামনডাঙ্গা ফিলিং স্টেশন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আউয়াল সরকারের বাড়ি উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মনিরাম গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মৃত সৈয়দ আলী সরকারের ছেলে। তিনি সাবেক অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ছিলেন। অবসরের পর তিনি গাইবান্ধা জজ আদালতে আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিস করছিলেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী জানান, আউয়াল সরকার গত রবিবার রাতে আদালত থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে বামনডাঙ্গা ফিলিং স্টেশন এলাকায় একটি ট্রাক তাকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। তিনি সড়কের ওপর ছিটকে পড়ে গেলে ট্রাকটি তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন, লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় গতকাল সোমবার সড়ক আইনে একটি মামলা হয়েছে।

ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত ১ আহত ১৫ : গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, গোপালগঞ্জে যাত্রীবাহী বাস, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেট কারের ত্রিমুখী সংঘর্ষে মাইক্রোবাসচালক নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও ১৫ যাত্রী। এ ঘটনায় প্রায় দেড় ঘণ্টা ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। নিহতের পরিচয় পাওয়া যায়নি। গতকাল সোমবার দুপুরে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সোনাশুর এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহতরা হলেন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার আব্দুল কালামের ছেলে আব্দুল করিম, কোটালীপাড়া উপজেলার বাগান উত্তরপাড়া গ্রামের সামাদ শেখের ছেলে হালিম শেখ, একই উপজেলার টুপুরিয়া গ্রামের সেকেন্দার আলীর ছেলে আজিজুর রহমান, একই গ্রামের কালাম মোল্লার মেয়ে ফাতেমা, আজিজুর রহমানের মেয়ে তাহসিনা, একই উপজেলার বন্দে আলীর ছেলে রিফাত আলী, মাঝবাড়ি গ্রামের দাউদ দাড়িয়ার ছেলে মামুন দাড়িয়া ও প্রাইভেট কারচালক খুলনার ছোট বয়রার লোকমান ফরাজীর ছেলে রাব্বি।

গোপালগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক শিপলু আহম্মেদ জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা কোটালীপাড়া স্টার এক্সপ্রেসের একটি যাত্রীবাহী বাস অপর একটি বাসকে ওভারটেক করতে গেলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় অপর একটি প্রাইভেট কারও  পেছন দিক থেকে সজোরে মাইক্রোবাসকে ধাক্কা দেয়। এতে যাত্রীবাহী বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে এবং মাইক্রোবাস ও প্রাইভেট কার সড়কের ওপর দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

এ ঘটনায় মাইক্রোবাসচালক ঘটনাস্থলে নিহত এবং বাস ও প্রাইভেট কারের অন্তত ১৫ যাত্রী আহত হন। খবর পেয়ে ফায়ার সর্ভিসের সদস্যরা স্থানীয়দের সহায়তায় হতাহতদের উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। এর মধ্যে গুরুতর আহত ১৩ জনকে গোপালগঞ্জ মেডিকলে কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় প্রায় দেড় ঘণ্টা ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক দিয়ে যান চলাচল বন্ধ থাকে।