বিধানসভা নির্বাচন

ভোটে কারচুপির অভিযোগে আদালতে যেতে চায় তৃণমূল

বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মেনে নেয়নি সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। ভোট গণনায় কারচুপির অভিযোগ তুলে ফল ঘোষণার পর থেকেই আদালতে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে আসছেন দলীয় সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

রবিবার (২৪ মে) ফেসবুক লাইভেও তিনি দাবি করেন, অন্তত ১৫০টি আসনে তৃণমূলকে ‘জোর করে’ হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি শুরু করেছেন তৃণমূলের আইনজীবী ও সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

তবে নির্বাচনী পিটিশন দায়েরের ক্ষেত্রে দলের ভেতরেই জটিলতা তৈরি হয়েছে। অনেক পরাজিত প্রার্থীই মামলার প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে অনাগ্রহ দেখাচ্ছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

তৃণমূলের দাবি, সব দিক বিবেচনায় ৫০টির বেশি আসনে নির্বাচনী পিটিশন দায়েরের মতো তথ্য-প্রমাণ জোগাড় করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে প্রার্থীদের অনীহা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, প্রাক্তন পরিবহণমন্ত্রী ও জাঙ্গিপাড়ার পরাজিত প্রার্থী স্নেহাশিস চক্রবর্তীকে নির্বাচনী পিটিশন দায়েরের কথা বলা হলেও তিনি রাজি হননি। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে কল্যাণ বলেন, অনেকেই দীর্ঘদিন দলের সুবিধা ভোগ করলেও এখন সরে যাচ্ছেন।

যদিও এ বিষয়ে স্নেহাশিস চক্রবর্তী প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে তিনি শুধু ‘না’ লিখে প্রতিক্রিয়া এড়িয়ে যান।

এদিকে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলে ও আইনজীবী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়ও মামলার প্রস্তুতিতে যুক্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। দলীয় সূত্র বলছে, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকে জেলা পর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ ও আইনি প্রস্তুতির কাজে সক্রিয় রয়েছেন তিনি। গণনায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে তৃণমূল দাবি করেছে, বিভিন্ন কেন্দ্রে ইভিএমের সিলযুক্ত ১৭-সি ফর্মের নম্বরের সঙ্গে মিল পাওয়া যায়নি। এছাড়া ভোটযন্ত্রের অতিরিক্ত চার্জ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে দলটি।