পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র এক দিন বাকি। শেষ মুহূর্তে কোরবানির প্রস্তুতিতে ব্যস্ত নগরবাসী। পশু কেনার পাশাপাশি এখন চলছে ছুরি, চাকু ও চাপাতিতে ধার দেওয়ার তোড়জোড়। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অনেকেই সাময়িকভাবে পেশা বদলে নেমেছেন ধার দেওয়ার কাজে। এতে যেমন নগরবাসী সহজে সেবা পাচ্ছেন, তেমনি বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অলিগলি থেকে শুরু করে প্রধান সড়কের পাশেও বসেছে ভ্রাম্যমাণ শান দেওয়ার দোকান। কেউ সাইকেলে করে, কেউ আবার ছোট যন্ত্র কাঁধে নিয়ে ঘুরছেন বাসা-বাড়ির সামনে। “ছুরি-চাকু ধার দেন” এমন হাঁকডাকে মুখর হয়ে উঠেছে অনেক এলাকা।
হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার বাসিন্দা হুরমুজ আলীও এমনই একজন। রাজধানীতে তিনি সাধারণত গ্যাসের চুলা মেরামতের কাজ করেন। তবে ঈদ উপলক্ষে গত দুদিন ধরে তিনি ছুরি, চাকু ও চাপাতিতে ধার দেওয়ার কাজ করছেন। এতে তার আয় প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে।
হুরমুজ আলী বলেন, গ্যাসের চুলার কাজ করে দিনে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা আয় হতো। এখন ছুরি-চাকুতে ধার দিয়ে প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা আয় হচ্ছে। ঈদের আগে কাজও অনেক বেশি।
তিনি জানান, প্রতিটি ছুরি বা চাকুতে শান দিতে ৩০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। চাপাতি বা বড় দা হলে দাম আরও বেশি। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করেও অনেক সময় চাহিদা সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
শুধু হুরমুজ আলী নন, রাজধানীর মিরপুর, মোহাম্মদপুর, যাত্রাবাড়ী, বাড্ডা, খিলগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক মানুষকে এই কাজে ব্যস্ত দেখা গেছে। তাদের মধ্যে অনেকে রিকশাচালক, নির্মাণশ্রমিক কিংবা মৌসুমি শ্রমিক। ঈদকে কেন্দ্র করে সাময়িক এই কাজ তাদের আয় বাড়াতে সহায়তা করছে।
নগরবাসীরাও ভ্রাম্যমাণ এই সেবায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। অনেকের মতে, একসময় ছুরি বা চাপাতিতে ধার দিতে কামারের দোকানে যেতে হতো। এখন বাড়ির সামনে থেকেই সহজে কাজ করিয়ে নেওয়া যাচ্ছে।