কোরবানির ঈদ মানেই গরুর মাংসের নানা পদ আর আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি। তবে পুষ্টিগুণে ভরপুর এই মাংস সবার শরীরে একইভাবে উপকার করে না। বয়স, শারীরিক অবস্থা ও খাদ্যাভ্যাস অনুযায়ী গরুর মাংস কখনো উপকারী, আবার কখনো ঝুঁকির কারণও হতে পারে।
পুষ্টিবিদদের মতে, গরুর মাংসে থাকা উচ্চমানের প্রোটিন, আয়রন, জিংক ও ভিটামিন বি-১২ শিশু ও কিশোরদের শারীরিক বৃদ্ধি, মস্তিষ্কের বিকাশ এবং রক্তশূন্যতা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে আয়রন সহজে শরীরে শোষিত হওয়ায় শিশুদের শেখার ক্ষমতা ও রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়াতে সহায়তা করে।
গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত পরিমিত মাংস খাওয়া শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধি ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোতে যেখানে অপুষ্টি ও আয়রনের ঘাটতি তুলনামূলক বেশি, সেখানে চর্বিহীন গরুর মাংস উপকারী হতে পারে।
তবে অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত মাংস শিশুদের ওজন বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে সসেজ, নাগেটের মতো প্রসেসড মাংস দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। চিকিৎসকদের পরামর্শ, শিশুদের খাদ্যতালিকায় শুধু মাংস নয়, দুধ, ডিম, ডাল, সবজি ও ফলও সমান গুরুত্ব পাওয়া উচিত।
অন্যদিকে বয়স্কদের ক্ষেত্রে গরুর মাংস খাওয়ার বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে যায় এবং হৃদ্রোগ, কিডনি জটিলতা বা উচ্চ কোলেস্টেরলের ঝুঁকি বাড়ে। যদিও চর্বিহীন গরুর মাংস বয়সজনিত পেশি ক্ষয় কমাতে সাহায্য করে, অতিরিক্ত লাল মাংস হৃদ্রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, গাউট ও হজমের সমস্যার কারণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রসেসড মাংস বয়স্কদের জন্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর। এছাড়া অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত মাংস অ্যাসিডিটি ও কোলোরেক্টাল ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।
তাই কোরবানির মাংস উপভোগ করলেও পরিমাণ ও খাবারের ভারসাম্যের দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, অল্প পরিমাণ চর্বিহীন মাংসের সঙ্গে মাছ, ডাল, ডিম, দুধ, শাকসবজি ও ফলমূলের সমন্বয়ই হতে পারে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের সবচেয়ে ভালো উপায়।