ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় দুটি ধর্মীয় উৎসবের অন্যতম পবিত্র ঈদুল আজহা। এ উৎসবটি কোরবানির ঈদ নামেও পরিচিত।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) নীলফামারীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে।
নীলফামারী জেলা সদরে পবিত্র ঈদুল আজহার জামাত কোথায় ও কখন অনুষ্ঠিত হবে, তার তালিকা ও সময়সূচি প্রকাশ করেছে জেলা প্রশাসন। পাশাপাশি দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বিরাজ করলে নিজ নিজ এলাকার জামে মসজিদে ঈদের জামাত আদায়ের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ইতোমধ্যে ঈদের জামাত আয়োজনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে চলছে মাঠের সাজসজ্জার কাজ।
নীলফামারী জেলার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল ৮টায় ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। তবে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বিরাজ করলে ঈদগাহ মাঠের পরিবর্তে সকাল সাড়ে ৮টায় জেলা শহরের কেন্দ্রীয় বড় মসজিদে জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
জেলার প্রধান এই জামাতে সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সুধী সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেবেন।
জেলার প্রথম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে জেলা সদরের মুন্সিপাড়া আহলে হাদীস ঈদগাহ মাঠে। এরপর সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে নীলফামারী পুলিশ লাইন্স মাঠে জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে পুলিশ সুপার ফরহাদ হোসেন খানসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নামাজ আদায় করবেন।
এদিকে নীলফামারী জেলা মডেল মসজিদে সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে এবং সদর উপজেলা মডেল মসজিদে সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। জেলার ডোমার, ডিমলা, জলঢাকা, কিশোরগঞ্জ ও সৈয়দপুর উপজেলা মডেল মসজিদ এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলার প্রধান ঈদগাহ মাঠেও সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
এ ছাড়া সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে সার্কিট হাউজ (ডাকবাংলো) ঈদগাহ মাঠ, বাড়াইপাড়া নতুন জামে মসজিদ ঈদগাহ মাঠ ও গাছবাড়ি পঞ্চপুকুরপাড়া ঈদগাহ মাঠে জামাত অনুষ্ঠিত হবে। আর সকাল সাড়ে ৮টায় কলেজ স্টেশন ঈদগাহ মাঠ, জোড় দরগাহ ঈদগাহ মাঠ ও কুখাপাড়া (ধনীপাড়া) ঈদগাহ মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
সূত্র জানায়, জেলার ছয় উপজেলার ৬০ ইউনিয়ন ও চারটি পৌরসভায় ছোট-বড় মিলিয়ে ১৫০টির বেশি ঈদগাহ রয়েছে। এসব ঈদগাহ মাঠে ঈদুল আজহার জামাত আয়োজনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। জেলায় মসজিদের সংখ্যা প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কথা বিবেচনায় রেখে প্রতিটি এলাকায় মসজিদে ঈদের জামাত আয়োজনের প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।
নীলফামারী পৌরসভার প্রশাসক সাইদুল ইসলাম জানান, শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠের প্রস্তুতির কাজ প্রায় শেষ। মুসল্লিদের সুবিধার্থে পুরো মাঠে স্ট্যান্ড ফ্যান ও সামিয়ানা টানানো হচ্ছে। এছাড়া আকস্মিক বৃষ্টি ও ঝড়ের কথা বিবেচনায় রেখে সামিয়ানার ওপরে ত্রিপল ও পলিথিন ব্যবহারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রতিকূল বা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বিরাজ করলে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠের নামাজ জেলা শহরের কেন্দ্রীয় বড় মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। অন্য ঈদগাহ মাঠগুলোর জামাত সংশ্লিষ্ট এলাকার মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। একাধিক জামাত হলে সংশ্লিষ্ট ঈদগাহ কমিটি সময় নির্ধারণ করবে।
জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক মো. মোছাদ্দিকুল আলম বলেন, ‘ঈদের জামাত সাধারণত ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। তবে জায়গা সংকুলান না হলে একাধিক জামাত বা স্থানীয় মসজিদে জামাত আদায়ে কোনো বাধা নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘জেলায় বর্তমানে প্রতিকূল আবহাওয়া বিরাজ করছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট ঈদগাহ কমিটিগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। বৃষ্টির মধ্যে যেন মুসল্লিরা নিরাপদে কোরবানির পশু জবাই করতে পারেন, সে জন্য মসজিদে মাইকিংয়ের মাধ্যমে ত্রিপল বা টিনশেডের নিচে কোরবানি সম্পন্ন করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।’