গোপালগঞ্জে যাত্রীবাহী বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশুসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পিরোজপুরের নাজিরপুরের কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়নের একই পরিবারের তিনজন রয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুর ১২টার দিকে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বেদগ্রাম এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, নাজিরপুরের কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়নের মুনিরাবাদ গ্রামের আবু হানিফের ছেলে মো. সোহাগ (৩৭), তার স্ত্রী খাদিজা খাতুন (৩৪) এবং তাদের সন্তান আরমান (১০)। তারা সবাই বাসের যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলেই সোহাগ ও তার স্ত্রীর মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের সন্তান আরমানকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেও মারা যায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভাটিয়াপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকনুজ্জামান।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে পিরোজপুরগামী দোলা পরিবহনের একটি বাস বেদগ্রাম এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলের দুই আরোহীসহ চারজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহতদের উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক শিশুর মৃত্যু হয়।
কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাসনাত জানান, সোহাগ ঢাকায় কাঠের কাজ করতেন। ঈদের ছুটিতে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে দোলা পরিবহনের একটি বাসে করে বাড়িতে ফিরছিলেন তিনি। পথে গোপালগঞ্জের বেদগ্রাম এলাকায় দুর্ঘটনার শিকার হলে ঘটনাস্থলেই সোহাগ ও তার স্ত্রীর মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় তাদের ছেলে আরমান।
এ বিষয়ে ভাটিয়াপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকনুজ্জামান জানান, বেদগ্রামে যাত্রীবাহী বাস ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ৫ জন নিহত হয়েছেন।
এর মধ্যে পিরোজপুর জেলার একই পরিবারের তিনজন, বাকি দুইজন বাগেরহাট জেলার চিতলমারী উপজেলার। আমরা দুর্ঘটনার পর গাড়িটিকে থানায় নিয়ে এসেছি এবং মরদেহ উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ জেলা হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, দূর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে ১১ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন।