ইরানি হুমকির জবাবে হামলার অধিকার রাখে আমেরিকা: জেডি ভ্যান্স

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য প্রাথমিক একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে ওয়াশিংটন, তবে এখনো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে সব ধরনের বিকল্পই খোলা রয়েছে, যার মধ্যে 'প্রতিরক্ষামূলক হামলা' চালানোর সম্ভাবনাও রয়েছে। 

মেরিল্যান্ডের অ্যান্ড্রুজ এয়ার ফোর্স বেসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান 'খুব কাছাকাছি' একটি সম্ভাব্য সমঝোতায় পৌঁছালেও এখনো কিছু 'স্টিকিং পয়েন্ট' রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদের বিষয়টি কীভাবে সমাধান করা হবে। 

মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উভয় পক্ষের মধ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছে, যেখানে ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানো, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন দফার আলোচনার বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

ভ্যান্স বলেন, উভয় পক্ষের আলোচকরা এখন একটি সমঝোতা স্মারকের শর্তগুলো নিয়ে মতবিনিময় করছেন, বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইস্যু নিয়ে। তিনি দাবি করেন, এখন পর্যন্ত ইরান আলোচনায় 'সদিচ্ছা' দেখাচ্ছে এবং অগ্রগতি হচ্ছে।

তবে তিনি একই সঙ্গে জানান, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং চুক্তিটি এখনো অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ভ্যান্সের মতে, আলোচনাটি এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে যেখানে দুই পক্ষ আবারও বসে বিষয়গুলো সমাধান করতে পারবে, তবে এতে আরও সময় লাগবে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ও ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের মধ্যে সংঘর্ষ প্রসঙ্গে ভ্যান্স বলেন, যুদ্ধবিরতির পরিস্থিতিতে কিছুটা বিশৃঙ্খলা দেখা দেওয়া স্বাভাবিক এবং মাঝে মাঝে ছোটখাটো উত্তেজনা বাড়তে পারে।

তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের কোনো হুমকি দেখা দিলে যুক্তরাষ্ট্রের 'প্রতিরক্ষামূলক হামলা' চালানোর অধিকার রয়েছে। 

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রেখেছে। কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও নৌ-অবরোধের মাধ্যমে দেশটির ওপর চাপ বাড়ানো হচ্ছে এবং প্রয়োজনে সামরিক পদক্ষেপ আবারও শুরু করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।