ভারত ম্যাচের আগে রক্ষণভাগ নিয়ে চিন্তায় বাটলার

শিরোপাধারী বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে ঠিকই, তবে মালদ্বীপের বিপক্ষে ৪-২ গোলের জয়ের পরও সন্তুষ্ট নন প্রধান কোচ পিটার জেমস বাটলার। দলের গোল মিসের মহড়া এবং রক্ষণভাগের অপ্রত্যাশিত ভুল নিয়ে ম্যাচ শেষে প্রকাশ্যেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি। 

পান্ডিত জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরুতেই বাংলাদেশের দাপট দেখা যায়। খেলা শুরুর মাত্র ১৩ সেকেন্ডের মাথায় আনিকা রানিয়া সিদ্দিকীর গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। এরপর ৩৪ মিনিটে উমেহলা মারমার শক্তিশালী শটে ব্যবধান দ্বিগুণ হলে ম্যাচ একতরফা হওয়ারই ইঙ্গিত মিলছিল। কিন্তু প্রথমার্ধের শেষ দিকে মনোযোগ হারায় বাংলাদেশ। সেই সুযোগে দূরপাল্লার চমৎকার এক লব শটে ব্যবধান কমান মালদ্বীপের মারিয়াম নোরা।

দ্বিতীয়ার্ধের ৫৬ মিনিটে বাংলাদেশের রক্ষণভাগের বড় ভুলের সুযোগ নিয়ে সমতা ফেরান আমিনাথ ফাজলা। ২-০ ব্যবধান থেকে ২-২ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ শিবিরে চাপ তৈরি হয়। তবে শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতার জোরেই ম্যাচে ফিরে আসে বাংলাদেশ। ৬৪ মিনিটে মালদ্বীপের গোলরক্ষকের ভুলে সুযোগ পেয়ে গোল করেন সৌরভী আক্তার প্রীতি। পরে কোহাতি কিস্কুর গোল বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করে।

বাটলার বলেন, ‘কিছু সময় আমরা সত্যিই ভালো ফুটবল খেলেছি। কিন্তু এত সুযোগ নষ্ট হওয়ায় আমি হতাশ। স্কোরলাইন ১০-২, ১২-২ কিংবা ১৪-২ও হতে পারত। আমাদের ফিনিশিং আরও ভালো হতে হবে।’

দলের পারফরম্যান্সে আত্মতুষ্টি ছিল না বলেও দাবি করেন বাটলার। কয়েকজন খেলোয়াড়ের চোটজনিত শঙ্কার কারণে তাকে একাদশে পরিবর্তন আনতে হয়েছে বলে জানান তিনি। তবু জয়ই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেমিফাইনাল নিশ্চিত হলেও এখন বাংলাদেশের সামনে বড় পরীক্ষা। ৩১ মে গ্রুপসেরা নির্ধারণী ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি হবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

বাটলারের বিশ্বাস, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের চিত্র ভিন্ন হবে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘আমরা আরও ভালো খেলতে পারি। শেষ পাস ও ফিনিশিং উন্নত করতে হবে। আর দ্বিতীয় গোলটি যেভাবে হজম করেছি, সেটি অবশ্যই বড় উদ্বেগের বিষয়।’ ভারতের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এমন ভুলের পুনরাবৃত্তি হলে তার খেসারত আরও বড় হতে পারে বলেই মনে করছেন বাংলাদেশের কোচ।