রাশিয়ার একটি ড্রোন রোমানিয়ার একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে আছড়ে পড়েছে। আজ শুক্রবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। রোমানিয়া কর্তৃপক্ষ বলেছে, ইউক্রেন সীমান্তের কাছে গালাতি শহরের একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে ড্রোনটি আছড়ে পড়ে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব সীমান্তের বাইরে ছড়িয়ে পড়ার সর্বশেষ নজির এটি। রোমানিয়ায় হামলার ঘটনায় ন্যাটো জোট ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
এ ঘটনায় রোমানিয়া সরকার রুশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকুসন ড্যান জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিষদে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। তিনি এটিকে ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর ‘রোমানিয়ার ভূখণ্ডে হওয়া সবচেয়ে গুরুতর ঘটনা’ বলে উল্লেখ করেছেন।
এতে ভবনটিতে আগুন ধরে যায় এবং ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর ও ৫৩ বছর বয়সী এক নারী গুরুতর আহত হন। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।২০২২ সালে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার অভিযান শুরুর পর থেকে রোমানিয়ায় বহুবার ড্রোন অনুপ্রবেশ করতে দেখা গেছে। তবে এবারই প্রথম কোনো আবাসিক ভবনে সরাসরি আঘাতের ঘটনা ঘটল।ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লিয়েন বলেছেন, এই হামলার মধ্য দিয়ে রাশিয়ার আগ্রাসন আরও একটি সীমারেখা ছাড়িয়ে গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উরসুলা লিখেছেন, ‘আমরা রোমানিয়া ও এর জনগণের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছি।’ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান আরও বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পূর্ব সীমান্তে প্রতিরোধ সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে এবং রাশিয়ার ওপর চাপ আরও জোরদার করা হবে।
মস্কোর আচরণকে ‘বেপরোয়া’ বলে উল্লেখ করেছে ন্যাটো। পাশাপাশি রোমানিয়াকে ‘পূর্ণ সমর্থন’ দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে তারা।
ন্যাটোর প্রধান মার্ক রুটে রোমানিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘রাশিয়ার বেপরোয়া আচরণ আমাদের সবার জন্যই বিপজ্জনক।’মার্ক রুটে আরও বলেন, ‘আমি নিশ্চিত করছি, মিত্র জোটের প্রতি ইঞ্চি ভূখণ্ড রক্ষার জন্য প্রস্তুত আছে ন্যাটো।’ ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ নোয়েল বারো এই ঘটনাকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
মলদোভার প্রেসিডেন্ট মাইয়া সান্দু রাশিয়াকে ‘সবার জন্য বিপজ্জনক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মলদোভার অবস্থান রোমানিয়া ও ইউক্রেনের মাঝখানে। মলদোভাতেও এর আগে একাধিকবার ড্রোন অনুপ্রবেশ ও ধ্বংসাবশেষ পড়ার ঘটনা ঘটেছে। রোমানিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, ২৮ থেকে ২৯ মে রাতের মধ্যে ইউক্রেনের ভেতরে বেসামরিক নাগরিক ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে আবারও ড্রোন হামলা চালায় রাশিয়া। রোমানিয়ার নৌ-সীমার কাছে এ ঘটনা ঘটে।
মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, ওই ড্রোনগুলোর একটি রোমানিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করেছে বলে রাডারে শনাক্ত হয়। গালাতি শহরের দক্ষিণ অংশ পর্যন্ত ড্রোনটি রাডারে শনাক্ত হয়েছে। পরে এটি একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের ছাদে বিধ্বস্ত হয়। এতে সেখানে আগুন ধরে যায়।
ড্রোন শনাক্ত হওয়ার পর রোমানিয়া দুটি এফ-১৬ ফাইটিং ফ্যালকন যুদ্ধবিমান পাঠায়। ইউক্রেনের আশপাশের এলাকায় সম্ভাব্য রুশ হামলার আশঙ্কায় রাতভর দেশজুড়ে বিমান হামলার সতর্কতা জারি ছিল। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলেছে, ইউক্রেনের দক্ষিণে জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে এক হামলার ঘটনায় অন্তত দুজন আহত হয়েছেন।