আজ্জুরি থেকে সকারুজ: বিশ্বকাপ খেলতে দেশবদল!

ফুটবল বিশ্বে দেশ বদল বা দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা খেলোয়াড়দের গল্প নতুন নয়। কিন্তু যখন সেই গল্পে যুক্ত হয় চার বছর আগে ফিরিয়ে দেওয়া এক প্রস্তাবের প্রতিশোধ বা আবেগের প্রত্যাবর্তন, তখন তা রূপ নেয় এক চরম নাটকে। ঠিক এমন এক রোমাঞ্চকর ঘটনার জন্ম দিতে যাচ্ছেন ২২ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড ক্রিস্টিয়ান ভলপাটো।

২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে যে অস্ট্রেলিয়া দলের হয়ে খেলার সরাসরি প্রস্তাব তিনি ‘প্রত্যাখ্যান’ করেছিলেন, আজ ২০২৬ বিশ্বকাপের ঠিক আগমুহূর্তে সেই নিজের জন্মভূমি অস্ট্রেলিয়ার জার্সি গায়েই বিশ্বমঞ্চ কাঁপাতে লস অ্যাঞ্জেলেসে পা রাখছেন এই তরুণ তুর্কি!

ইতালির বয়সভিত্তিক দল মাতিয়ে আসা এই ফুটবলারকে সকারুজদের চূড়ান্ত বিশ্বকাপ স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশন ইতিমধ্যেই সবুজ সংকেত (রিলিজ লেটার) পাঠিয়েছে। ফলে ইতালি ছেড়ে তাঁর অস্ট্রেলিয়া দলে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে এখন আর কোনো আইনি বাধা নেই।

ইতালি থেকে অস্ট্রেলিয়ায় আবাস গড়েছিলেন ভলপাটোর দাদা। সিডনির পশ্চিমাঞ্চলে জন্ম ও বেড়ে ওঠা ভলপাটোর ফুটবলার হয়ে ওঠার হাতেখড়ি অস্ট্রেলিয়ার মাঠেই। কিন্তু ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের প্রাক্কালে অস্ট্রেলিয়ার তৎকালীন কোচ গ্রাহাম আর্নল্ড যখন তাঁকে জাতীয় দলে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেন, ১৯ বছর বয়সী ভলপাটো তখন সরাসরি তা মানা করে দেন। সে সময় ইতালির যুব দলে ডাক পাওয়া ভলপাটো অস্ট্রেলিয়ার সবুজ-হলুদ জার্সি ছেড়ে ইতালির ‘আজ্জুরি’দের হয়ে সিনিয়র ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন দেখছিলেন এবং ইতালির মূল দলের জন্য ‘অপেক্ষা’ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

তাহলে চার বছর পর কী এমন ঘটল যে ভলপাটো তাঁর সিদ্ধান্ত বদলে ফেললেন? এর পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছেন অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান কোচ টনি পোপোভিচ। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি ইতালিতে গিয়ে ভলপাটোর ক্লাব সাসুওলো-তে তাঁর সাথে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করেন। পোপোভিচ তাঁর স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে ভলপাটোকে দলে আসার জন্য কোনো আলটিমেটাম বা বাড়তি চাপ দেননি, বরং তরুণ এই খেলোয়াড়ের সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে অস্ট্রেলিয়ার দরজা খোলা রাখার বার্তা দিয়ে আসেন।

কোচের সেই আন্তরিক ব্যবহার এবং সকারুজ তারকা অ্যাটাকার রাইলি ম্যাকগ্রির সাম্প্রতিক চোট—সব মিলিয়ে ভলপাটো বুঝতে পারেন, এই মুহূর্তে নিজের জন্মভূমির জন্য মাঠে নামার এর চেয়ে সেরা সুযোগ আর হতে পারে না।

ভলপাটো কোনো সাধারণ মানের ফুটবলার নন। বিশ্ববিখ্যাত কোচ হোসে মরিনহোর হাত ধরে ইতালিয়ান জায়ান্ট রোমার হয়ে সিরি-এ তে অভিষেক হয়েছিল এই উইঙ্গারের। রোমার পর ২০২৩ সালে তিনি সাসুওলোতে যোগ দিয়ে ক্লাবটির হয়ে ৭২ ম্যাচে ৭টি গোল এবং ১১টি অ্যাসিস্ট করেছেন। বিশেষ করে সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ মৌসুমে সাসুওলোকে পুনরায় ইতালির শীর্ষ লিগে ফিরিয়ে আনতে তিনি অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন।

শনিবার লস অ্যাঞ্জেলেসে যখন অস্ট্রেলিয়া দল মেক্সিকোর বিপক্ষে তাদের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে নামবে, ঠিক তখনই সেখানে অবতরণ করবেন ভলপাটো। যে দেশকে একসময় ফিরিয়ে দিয়েছিলেন, চার বছর পর আজ সেই অস্ট্রেলিয়ার আক্রমণভাগের মূল কাণ্ডারি হিসেবেই তাঁর বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হতে যাচ্ছে। এই নাটকীয় প্রত্যাবর্তন ফুটবল ভক্তদের কতখানি রোমাঞ্চিত করে, এখন সেটাই দেখার বিষয়!