স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত লাখো নারীকে ভবিষ্যতে কেমোথেরাপি ছাড়াই চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হতে পারে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। নতুন এক জিনগত (জেনোমিক) পরীক্ষার মাধ্যমে কোন রোগীর কেমোথেরাপি প্রয়োজন এবং কার প্রয়োজন নেই, তা নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের (ইউসিএল) নেতৃত্বে পরিচালিত ‘অপটিমা’ নামে আন্তর্জাতিক এক গবেষণায় চার হাজার চারশোর বেশি রোগী অংশ নেন। যুক্তরাজ্যসহ ছয়টি দেশের এই গবেষণায় দেখা গেছে, হরমোন-সংবেদনশীল স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত যেসব রোগীর জিনগত পরীক্ষার স্কোর কম, তারা শুধুমাত্র হরমোন থেরাপি নিয়েই নিরাপদে চিকিৎসা নিতে পারেন।
গবেষণায় ব্যবহৃত ‘প্রোসাইনা’ নামের পরীক্ষাটি টিউমারের ৫০টি জিনের কার্যক্রম বিশ্লেষণ করে ক্যান্সার পুনরায় ফিরে আসার ঝুঁকি নির্ধারণ করে। পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে চিকিৎসকরা সিদ্ধান্ত নিতে পারেন কেমোথেরাপি প্রয়োজন হবে কি না।
পাঁচ বছর পর দেখা গেছে, কেমোথেরাপি ও হরমোন থেরাপি নেওয়া রোগীদের ৯৫ শতাংশ ক্যান্সারমুক্ত ও জীবিত ছিলেন। অন্যদিকে, শুধুমাত্র হরমোন থেরাপি নেওয়া রোগীদের ৯৪ শতাংশও ক্যান্সারমুক্ত ও জীবিত ছিলেন। অর্থাৎ কম ঝুঁকির রোগীদের ক্ষেত্রে কেমোথেরাপি অতিরিক্ত তেমন কোনো সুবিধা দেয়নি।
গবেষকদের মতে, এই ফলাফল স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসায় ব্যক্তিকেন্দ্রিক পদ্ধতির নতুন যুগের সূচনা করতে পারে। এর ফলে লাখো নারী কেমোথেরাপির কঠিন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে রেহাই পাবেন এবং স্বাস্থ্যসেবার ব্যয়ও কমবে।