জুলাই আন্দোলনের তরুণদের ভূয়সী প্রশংসা ড. ইউনূসের

সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, নতুন প্রযুক্তির শক্তিতে তরুণ-তরুণীরা নিজেদের জন্য বিরাট সামাজিক ও রাজনৈতিক শক্তি তৈরি করবে। এই তথ্য-প্রযুক্তি তরুণদের হাতে আলাদিনের চেরাগের দৈত্যের মতো, যা জেগে উঠলে বিশ্বে বিস্ময়কর, দ্রুত ও ব্যাপক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশে শিক্ষার্থী নেতৃত্বাধীন জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতি তুলে ধরে জানান, ওই আন্দোলনে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের পাশাপাশি ছাত্রীদেরও সক্রিয় ভূমিকা ছিল। তরুণদের হাত ধরে বাংলাদেশের পরিবর্তনটা আরও দ্রুত ঘটবে বলে মনে করেন তিনি।

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে শুক্রবার (২৯ মে) দেশটির নারী-পুরুষ সমতা ও বৈষম্যবিরোধী লড়াইবিষয়ক মন্ত্রী অরোর বের্জের সঙ্গে জনসংলাপের অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন মুহাম্মদ ইউনূস।

প্যারিসের ক্রেডিট আগ্রিকোল ফেডারেশন মিলনায়তনে এ সংলাপের আয়োজন করে গ্রামীণ ক্রেডিট আগ্রিকোল ফাউন্ডেশন।

ক্রেডিট গ্রুপের মহাসচিব ভেরোনিক ফোজুরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত উন্মুক্ত আলোচনায় আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও নারী-পুরুষ সমতা খাতের ১৫০ জন নেতা অংশ নেন।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল ম্যাখোঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং বৈষম্যবিরোধী ও নারীর অর্থনৈতিক সমতার পক্ষে সক্রিয় কণ্ঠ অরোর বের্জে সংলাপে নারী-পুরুষ সমতা নিশ্চিতে কাজ করা গ্রামীণ ক্রেডিট আগ্রিকোলের ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন কাজের প্রশংসা করেন।

বিশ্বজুড়ে ফাউন্ডেশনের মোট ঋণের ৮৫ শতাংশের বেশি নারীদের কাছে পৌঁছায় বলে জানান অংশগ্রহণকারীরা।

বের্জে বলেন ফ্রান্সসহ বিশ্বজুড়ে বৈষম্য ও অসমতা তীব্র এবং তা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় তরুণদের, বিশেষ করে নারীদের ক্ষমতায়ন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি জরুরি হয়ে উঠেছে বলে মনে করেন তিনি।

আলোচনায় মুহাম্মদ ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের অভিজ্ঞতা থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন অংশ তুলে ধরেন।

তিনি বাংলাদেশে শিক্ষার্থী নেতৃত্বাধীন জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতি তুলে ধরে জানান, ওই আন্দোলনে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের পাশাপাশি ছাত্রীদেরও সক্রিয় ভূমিকা ছিল।

ন্যায্য, সমতাভিত্তিক ও সহনশীল সমাজ গড়তে তৃণমূল পর্যায়ে আর্থিক স্বনির্ভরতা জরুরি বলে উল্লেখ করেন মুহাম্মদ ইউনূস। প্রতিটি সমাজেই এ পরিবর্তন ঘটবে, তবে তরুণদের হাত ধরে বাংলাদেশে তা আরও দ্রুত ঘটবে বলে মনে করেন তিনি।

বাংলাদেশের ৬৫ শতাংশ জনগোষ্ঠীর বয়স ৩৫ বছরের নিচে হওয়ায় তরুণদের শক্তি আগামী বছরগুলোতে আরও বাড়তে থাকবে এবং তা ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হবে বলে ইউনূস বলেন।