পবিত্র ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটিতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল। চা-বাগানের সবুজ বিস্তার, পাহাড়ি সৌন্দর্য, বনাঞ্চল আর নির্মল পরিবেশে পরিবার-পরিজন নিয়ে সময় কাটাতে এখানে ভিড় করছেন পর্যটকেরা। তবে পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, এবার ঈদে পর্যটকের উপস্থিতি থাকলেও তা প্রত্যাশার তুলনায় কম।
ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর শ্রীমঙ্গলে বাড়তি পর্যটক সমাগম দেখা গেলেও এবার সেই চিত্র কিছুটা ভিন্ন। দর্শনীয় স্থানগুলোতে ঘুরতে আসা মানুষের উপস্থিতি রয়েছে, কিন্তু আগের বছরের মতো উপচে পড়া ভিড় চোখে পড়ছে না। ব্যবসায়ীরা বলছেন, হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে উদ্বেগ, যাতায়াতে ভোগান্তি, ট্রেনের টিকিট সংকট এবং বৈরী আবহাওয়া মিলিয়ে এবার পর্যটকের সংখ্যা কিছুটা কমেছে।
শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে ঘুরে দেখা যায়, চা-বাগানের সবুজে ছবি তুলছেন পর্যটকেরা, পরিবার নিয়ে সময় কাটাচ্ছেন লেকপাড়ে কিংবা বনাঞ্চলের পাশে। অনেকেই ছুটির সুযোগে কয়েক দিনের পরিকল্পনা নিয়ে এসেছেন। শহরের ব্যস্ততা ছেড়ে প্রকৃতির কাছে এসে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন ভ্রমণপিপাসুরা।
ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা সুমন হুদা নামের এক পর্যটক বলেন, ঈদের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেই শ্রীমঙ্গলে এসেছি। সবুজে ঘেরা পরিবেশ আর এখানকার শান্ত আবহ সত্যিই মন ভালো করে দেয়। পরিবার নিয়ে দারুণ সময় কাটছে। বারবার এলেও শ্রীমঙ্গল নতুনভাবেই মুগ্ধ করে।
চট্টগ্রাম থেকে আসা আরেক পর্যটক জহিরুল ইসলাম জানান, ঈদের আগের দিনই তারা শ্রীমঙ্গলে পৌঁছেছেন। কয়েক দিন থাকার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। চা-বাগান, লেক ও আশপাশের দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখছেন। গরম কিছুটা বেড়েছে, তারপরও প্রকৃতির সৌন্দর্যে ভ্রমণের আনন্দ কমেনি।
শ্রীমঙ্গলের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে চা-বাগান ছাড়াও রয়েছে বাইক্কা বিল, লাল পাহাড়, চম্পা লেক, সাত রঙের চা, খাসিয়া পল্লি, মণিপুরী পাড়া, বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট এলাকা, হরিণছড়া ও রাবার বাগান। পাশাপাশি কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া,মাধবপুর লেক, হামহাম জলপ্রপাত ও শহীদ হামিদুর রহমান স্মৃতি সৌধেও পর্যটকদের ভিড় রয়েছে।
রাধানগর ট্যুরিজম এন্টারপ্রেনার অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি তাপস দাশ বলেন, ঈদ উপলক্ষে হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজে আগাম বুকিং ভালো থাকলেও বাস্তবে পর্যটক উপস্থিতি কিছুটা কম। ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকে ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। তবে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় অনেক পর্যটক বাইরে দীর্ঘ সময় না ঘুরে আবাসনকেন্দ্রেই সময় কাটাচ্ছেন।
পর্যটন সেবা সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এসকে দাশ সুমন বলেন,শ্রীমঙ্গলে বর্তমানে শতাধিক হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ রয়েছে। বড় ছুটিকে ঘিরেই এই অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি আশাবাদী থাকেন। কিন্তু এবার সেই প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ হয়নি। তারপরও ছুটির বাকি দিনগুলোতে পর্যটক বাড়বে বলে আশা করছেন তারা।
এদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তায় মাঠে রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। ট্যুরিস্ট পুলিশ শ্রীমঙ্গল জোনের পরিদর্শক প্রজিত কুমার দাশ বলেন, শ্রীমঙ্গলের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন স্পটগুলোতে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। নিয়মিত টহলের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।