খুলনায় একই পরিবারের তিনজনের লাশ উদ্ধার 

খুলনায় একই পরিবারের তিন জনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (৩০ মে) সন্ধ্যা ৬টায় খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকার তমিজ উদ্দিন সড়কের দারুস আমান মহল্লায় শরিফুল ইসলামের ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন বেবি (৫৬), শামিম (১২) ও মুস্তাকিম (৫)। নিহত বেবির মেয়ে ফাতেমা বেগম ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ফাতেমা বেগম জানান, বেবি আমার মা এবং শামীম ও মুস্তাকিম আমার দুই সন্তান। ফাতেমা বলেন, শামীম ও মোস্তাকিম আমার প্রথম পক্ষের সন্তান। আমার দ্বিতীয় পক্ষের স্বামী রফিকুল আমার আগের ঘরের সন্তানদের ভালো চোখে দেখতো না। গত শুক্রবার রাতে সে বাড়িতে এসে আমার সাথেই থাকে। সেই এই হত্যার কাজ করতে পারে।

এদিকে খবর পেয়ে সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ, ডিবি এবং সিআইডির বিশেষ টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্রাইম সিন থেকে আলামত নিয়েছে।  সুরতহাল শেষ করে তিনজনের মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়না তদন্তের জন্য নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফাতেমা বেগমের প্রথম স্বামী মাসুম বেপারী (৪৫)। তিনি নগরীর লবণচরা থানার কৃষ্ণনগর গ্রামের কাশেম বেপারীর ছেলে। চার বছর আগে মাসুম বেপারীর সাথে ফাতেমা বেগমের ডিভোর্স হয়। এরপর ফাতেমার আন্তঃজেলা ট্রাক ড্রাইভার রফিকুলের সাথে বিয়ে হয়। তখন ফাতেমার দুই ছেলে তার মা বেবির কাছে থাকতো। সেই সময় থেকে সেও প্রায় ফাতেমা বেগমের মায়ের বাসায় এসে থাকতো।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, নগরীর সোনাডাঙ্গা থানা এলাকার দারুল আমান মহল্লায় শরিফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির ভাড়া বাসায় তিনটি মরদেহ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দুটি শিশু মিুস্তাকিম ও শামিম এবং তাদের নানি বেবী বেগম-এর মরদেহ রয়েছে।

এ ঘটনায় নিহত শিশুসন্তান দুটির মা ফাতেমা বেগমকে( ৩৫)  হেফাজতে নেয়া হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যমতে তার দ্বিতীয় স্বামী রফিকুল ঘটনার সাথে জড়িত। পুলিশ এই ঘটনার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। রফিকুল খুলনা নগরীর মহেশ্বরপাশা এলাকার আলমগীর হোসেনের ছেলে। আলমগীরকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।