কয়রায় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত লাখো মানুষ

সদরে সরকারি হাসপাতাল না থাকায় দুর্ভোগ, দ্রুত হাসপাতাল নির্মাণের দাবি

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪২ পিএম

খুলনার উপকূলীয় উপজেলা কয়রার সদর এলাকায় সরকারি হাসপাতাল না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন লাখো মানুষ। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে আমাদী ইউনিয়নে অবস্থিত হওয়ায় জরুরি চিকিৎসা পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে রোগীদের। যোগাযোগব্যবস্থা দুর্বল, দীর্ঘ পথ এবং দারিদ্র্যের কারণে অনেক রোগী সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে প্রাণ হারানোর ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সুন্দরবনসংলগ্ন দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়ন থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দূরত্ব প্রায় ৩০ থেকে ৩১ কিলোমিটার। দুর্গম সড়ক পাড়ি দিয়ে গুরুতর অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন গর্ভবতী নারী, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং সুন্দরবনে বাঘ বা বন্য প্রাণীর হামলায় আহত জেলে-বাওয়ালীরা। অনেক ক্ষেত্রে সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় জটিলতা বাড়ে।

উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের মধ্যে দক্ষিণ বেদকাশী, উত্তর বেদকাশী, কয়রা সদর, মহারাজপুর ও মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের মানুষের জন্য উপজেলা সদরই সবচেয়ে সহজ যোগাযোগের স্থান। তাই দীর্ঘদিন ধরে সদর এলাকায় একটি সরকারি হাসপাতাল নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, সদরেই হাসপাতাল স্থাপন করা হলে চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য হবে এবং জরুরি রোগী দ্রুত চিকিৎসা পাবেন।

কয়রা সদরের পাশেই সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়ন। সেখানকার বাসিন্দারাও কেনাকাটা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও চিকিৎসাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে কয়রা সদরের ওপর নির্ভরশীল। ফলে সদর এলাকায় হাসপাতাল নির্মিত হলে প্রতাপনগর এলাকার মানুষও উপকৃত হবেন।

গোবরা গ্রামের ধাত্রী আকলিমা খাতুন বলেন, 'হাসপাতাল অনেক দূরে হওয়ায় গর্ভবতী নারীদের নিয়মিত চিকিৎসা করানো কঠিন হয়ে পড়ে। প্রসবকালীন জটিলতায় অনেক দুর্ঘটনাও ঘটে। উপজেলা সদরে হাসপাতাল হলে মা ও শিশুস্বাস্থ্যের জন্য তা বড় উপকার হবে।'

কয়রা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এইচ এম শাহবুদ্দিন আহমেদ বলেন, 'বাংলাদেশে এমন উপজেলা খুব কমই আছে, যেখানে উপজেলা সদর থেকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এত দূরে। পুরো উপজেলার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে উপজেলা সদরেই একটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ জরুরি।'

কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেজাউল করিম রাজিব বলেন, 'উপজেলা সদরে একটি হাসপাতাল খুবই প্রয়োজন। বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণ বেদকাশীর মানুষ বর্তমান স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে অনেক কষ্ট করেন। সদর এলাকায় ১০ শয্যার একটি হাসপাতাল নির্মাণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।'

এ বিষয়ে খুলনার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো. শওকত আলী বলেন, 'তিনি কাজে সদ্য যোগ দিযেছেন।কয়রা সদরে একটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের প্রয়োজন। এছাড়া উপজেলার ইউনিয়ন ও উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র গুলোতে চিকিৎসক না থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, সারা দেশেই মেডিকেল অফিসারের সংকট রয়েছে। নতুন নিয়োগ হলে এ সংকট অনেকটাই কাটবে বলে আশা করছি।'

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত