পবিত্র ঈদুল আজহার টানা ছুটিতে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় ও ঢল নেমেছে। ঈদের প্রথম দিন উপস্থিতি কিছুটা কম হলেও দ্বিতীয় দিন থেকে দর্শনার্থীদের জনস্রোতে মুখরিত হয়ে উঠেছে পুরো সৈকত এলাকা।
তবে পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে ঈদের ছুটি মিলে যাওয়ায় এবার প্রত্যাশিত সংখ্যক পর্যটক আসেননি। শুক্রবার (২৯ মে) সকাল থেকে শনিবার (৩০ মে) বিকেল পর্যন্ত লাবণী, সুগন্ধা, কলাতলী ও টেকনাফ সৈকতে পর্যটকদের ভিড় দেখা গেছে। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে সমুদ্রসৈকতে ঘুরে বেড়াতে এবং ছবি তুলতে ব্যস্ত ছিলেন অনেকে। হোটেল ও পর্যটন খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, অতীতের ঈদগুলোর তুলনায় এবার আগাম বুকিং কম ছিল।
তবে ঈদের পরবর্তী কয়েক দিনে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে তাদের আশা। ইতোমধ্যে বিভিন্ন হোটেল ও রিসোর্টে নতুন করে বুকিং বাড়ছে।
কক্সবাজারে আসা পর্যটকদের বড় একটি অংশ এখন শুধু সমুদ্রসৈকতেই সীমাবদ্ধ থাকছেন না। জেলার বিভিন্ন প্রাকৃতিক, ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় পর্যটনকেন্দ্রেও তাদের আগ্রহ বাড়ছে।
পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিকল্প পর্যটন গন্তব্য হিসেবে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ, সোনাদিয়া দ্বীপ ও মেরিন ড্রাইভ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। পাশাপাশি চকরিয়ার ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক এবং বিভিন্ন বনাঞ্চলেও ভ্রমণ করছেন পর্যটকেরা।
এ ছাড়া রামুর বৌদ্ধবিহার, মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির ও টেকনাফের ঐতিহাসিক মাথিনের কূপেও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে আগ্রহী পর্যটকদের কাছে এসব স্থান এখনো আকর্ষণীয় গন্তব্য।
কক্সবাজার হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, এবার আগাম বুকিং তুলনামূলক কম থাকলেও ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকে পর্যটকের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। আগামী কয়েক দিনে হোটেলগুলোর কক্ষ দখলের হার আরও বাড়বে বলে আমরা আশা করছি। কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।
ট্যুরিস্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজারের (ট্যুয়াক) সভাপতি আনোয়ার কামাল বলেন, বর্তমানে পর্যটকেরা শুধু সমুদ্রসৈকত নয়, জেলার বিভিন্ন দ্বীপ, পাহাড়, বনাঞ্চল ও ঐতিহাসিক স্থানও ঘুরে দেখছেন। এতে কক্সবাজারের পর্যটন খাত আরও বৈচিত্র্যময় হচ্ছে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
ঈদ উপলক্ষে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমুদ্রসৈকত ও বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশ, লাইফগার্ড ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সমুদ্রসৈকতের পাশাপাশি পাহাড়, বন, দ্বীপ, বন্যপ্রাণী ও ধর্মীয় স্থাপনার সমন্বয়ে কক্সবাজার ধীরে ধীরে একটি বহুমাত্রিক পর্যটন জেলায় পরিণত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন অব্যাহত থাকলে সারা বছরই পর্যটকের উপস্থিতি বাড়বে বলে তারা মনে করছেন।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুর মান্নান বলেন, ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সেবা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কক্সবাজারে আগত পর্যটকেরা যাতে নির্বিঘ্নে ভ্রমণ করতে পারেন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।