মে মাসে নারী ও শিশু নির্যাতন বেড়েছে ৪.৪৯ শতাংশ

দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা এপ্রিল মাসের তুলনায় মে মাসে বেড়েছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)। সংস্থাটির প্রকাশিত জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা মনিটরিং প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ৩১২টি ঘটনা ঘটলেও মে মাসে এসে সেটা ৩২৬টি হয়েছে। এতে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশেষ করে ধর্ষণ, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যা, যৌন হয়রানি এবং আত্মহত্যার ঘটনায় বৃদ্ধি উদ্বেগজনক বলে মনে করছে সংস্থাটি। তবে আশাব্যঞ্জকভাবে কমেছে শারীরিক নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা। গতকাল এমএসএফ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।

প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয় এপ্রিলে ধর্ষণের ঘটনা ৫৪টি, মে মাসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮, যা প্রায় ৪৪ শতাংশ বৃদ্ধি। একই সময়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ১৪ থেকে বেড়ে ১৬ এবং ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ২ থেকে বেড়ে ৬-এ উন্নীত হয়েছে। যৌন হয়রানির ঘটনাও ১৭ থেকে বেড়ে ১৮ হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার এই ঊর্ধ্বগতি সামাজিক নিরাপত্তা, বিচারহীনতা এবং আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। এমএসএফের মতে, এসব ঘটনা সমাজে নারীদের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানেরও ইঙ্গিত দেয়।

মে মাসে নতুন ঝুঁকি হিসেবে অনলাইন জুয়া ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধের বিস্তার লক্ষ্য করা গেছে। অনলাইন জুয়ার ঘটনায় একজনের মৃত্যু এবং পাঁচজন গ্রেপ্তারের তথ্য ওঠে এসেছে। একই সময়ে মাদকসংক্রান্ত ঘটনায় চারজন নিহত, ১৯ জন আহত এবং ১৫ জন আটক হয়েছেন। এ ছাড়া পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের দুটি ঘটনা এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে পুলিশের সম্পৃক্ততার তিনটি অভিযোগও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংস্থাটির নির্বাহী সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে নারী ও শিশু নির্যাতনের প্রকৃতি এখন আরও জটিল ও বহুমাত্রিক হয়ে উঠছে। প্রকাশ্য সহিংসতার কিছু ঘটনা কমলেও যৌন সহিংসতা, ডিজিটাল অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয়ের সূচকগুলো বাড়ছে।