রাজধানীতে ঈদের ছুটিতে ১৩ জনের অস্বাভাবিক মৃত্যু

রাজধানীতে ২৬ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত পৃথক স্থান থেকে ১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিহতদের ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহগুলো পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সবুজবাগের পূর্ব মাদারটেক এলাকার একটি বাসা থেকে গতকাল রবিবার দুপুরে ফারুক হোসেন নামে এক সিএনজিচালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সবুজবাগ থানার এসআই মাবুদ হোসেন জানান, পারিবারিক কলহের জেরে শনিবার রাতের  কোনো এক সময় তিনি স্ত্রীর ওড়না দিয়ে গলায় জড়িয়ে ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস দেন। সকালে পরিবারের সদস্যরা তাকে মুগদা হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

জানা গেছে, ২৭ মে ঈদুল আজহার আগের দিন মিরপুর দারুসসালামের হরিরামপুর এলাকার একটি টিনশেড ঘর থেকে নূর মোহাম্মদ ওরফে হৃদয় এবং তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ঝুমা আক্তারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। দারুসসালাম থানার ওসি মো. দুলাল হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এর আগে যাত্রাবাড়ী মাতুয়াইল ঠাকুরবাড়ি এলাকার একটি বাসা থেকে শ্রাবণী আক্তার পলি নামে এক গৃহিণীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদনে যাত্রাবাড়ী থানার এসআই আওলাদ হোসেন উল্লেখ করেন, স্বামীর সঙ্গে মনোমালিন্যে ২৭ মে বিকেলে তিনি গলায় ফাঁস দেন। এ দিকে ওইদিন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পান্থপথে বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্স থেকে লাফিয়ে পড়েন অজ্ঞাতনামা এক যুবক। মার্কেটের নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ছাড়া গত ২৬ মে রাত ৯টার দিকে দক্ষিণ বাড্ডা দারোগাবাড়ি এলাকার একটি বাসার দ্বিতীয়তলা থেকে উদ্ধার করা হয় মামুনুর রশিদ নামে এক চাকরিজীবীর ঝুলন্ত মরদেহ। ভাটারা থানার এসআই আবু ইউসুফ জানান, পারিবারিক কলহের কারণে তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

এদিকে পূর্ব রামপুরা অগ্নিশিখা গলির একটি বাসা থেকে ২৮ মে রাত সাড়ে ৯টার দিকে উদ্ধার হয় আব্দুল্লাহ নামে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ। আর্থিক সংকট ও বেকারত্বের কারণে তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানান রামপুরা থানার এসআই সুব্রত পাল। একই দিন দুপুরে ডেমরা মেন্দিপুর আমান মার্কেট এলাকার নিজ বাড়ির পাশে আবাদি জমিতে জমে থাকা পানিতে পড়ে যায় অয়ন্তী নামে দুই বছরে এক শিশু। পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। এর আগে এদিন সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের সামনের ফুটপাত থেকে উদ্ধার হয় অজ্ঞাতনামা এক ভবঘুরে ব্যক্তির মরদেহ। এ ছাড়া ডেমরার ডগাইর পশ্চিমপাড়া এলাকার একটি বাড়ি থেকে শাকিল হোসেন নামে এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করে ডেমরা থানা পুলিশ। এসআই আহসান হাবিব জানান, প্রেমঘটিত কারণে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মনোমালিন্যে তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

এ ছাড়া গত ২৯ মে সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভাটারা সোলমাইদ ব্যাপারীবাড়ি এলাকার একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় পূর্ণিমা আক্তার নামে এক গৃহিণীর মরদেহ। সাংসারিক বিরোধের জের ধরে স্বামী তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে শিশু সন্তানকে নিয়ে পালিয়ে যায় বলে করেন উল্লেখ করেন এসআই মো. ইয়াউর রহমান। একই দিন দুপুরে পুলিশ মনির গাজী নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে ভাটারা শোলমাইল দর্জিবাড়ি এলাকার বাসা থেকে। এ ছাড়া কামরাঙ্গীরচর থানার এসআই ব্রজ কিশোর পাল জানান, একই দিন পশ্চিম আশ্রাফাবাদ এলাকার একটি বাসা থেকে রাত ৯টার দিকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে এনামুল ওরফে সুমন নামে এক রিকশাচালকের মরদেহ।