চট্টগ্রামে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে

এবারে চট্টগ্রামে কোরবানির চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। কাঁচা চামড়া আড়তদার কল্যাণ সমিতির তথ্য মতে, গতকাল রবিবার পর্যন্ত মহানগর ও উপজেলা মিলে বিভিন্ন ধরনের কোরবানির পশুর ৪ লাখ ১১ হাজার ৪৪০ পিস চামড়া সংগ্রহ হয়েছে।

সমিতি সূত্র জানায়, আড়তদাররা চলতি বছর সাড়ে ৩ লাখ থেকে ৪ লাখ পিস চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু সেই লক্ষ্যমাত্রা এবার ছাড়িয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় কাঁচা চামড়া আড়তদার কল্যাণ সমিতি থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, এবার চট্টগ্রাম মহানগরীতে লবণজাত করা হয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার ২৫০ পিস চামড়া। এর মধ্যে গরুর চামড়া ১ লাখ ৫৫ হাজার ৯০০ পিস, মহিষের চামড়া ৬ হাজার ৬৫০ পিস ও ছাগলের চামড়া ১৭ হাজার ৭০০ পিস। নগরীর বাইরে বিভিন্ন উপজেলায় সংগ্রহ করা হয়েছে ২ লাখ ৩১ হাজার ১৯০ পিস চামড়া। যার মধ্যে রয়েছে ১ লাখ ৮৯ হাজার ৭৯০ পিস গরুর, ৫ হাজার ৩০০ পিস মহিষের ও ৩৬ হাজার ১০০ পিস ছাগলের চামড়া।

কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ী ও আড়তদার কল্যাণ সমিতির সভাপতি মুসলিম উদ্দিন জানান, ‘পুঁজির সংকটের পরও চট্টগ্রামের আড়তদাররা এবার চামড়া সংগ্রহের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। তাই লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি চামড়া সংগ্রহ সম্ভব হয়েছে।’

জানা গেছে, আড়তদার কল্যাণ সমিতির বাইরে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও মাদ্রাসা বেশ কিছু চামড়া সংগ্রহ করে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় লবণজাত করেছে। এবার চট্টগ্রাম নগরী ও কয়েকটি উপজেলায় চামড়া সংগ্রহ করেছে গাউছিয়া কমিটি বাংলাদেশ। এ ছাড়া হালিশহর তৈয়বিয়া মাদ্রাসা, বন্দর গাউছিয়া কমিটি ও নগরীর বাইরে কয়েকটি উপজেলায় বেশ কিছু চামড়া সংগ্রহ করে স্থানীয়ভাবে লবণজাত করা হচ্ছে। চট্টগ্রামের একমাত্র ট্যানারি রিফ লেদারও মাঠপর্যায়ে কিছু চামড়া সংগ্রহ করেছে।

এদিকে প্রত্যাশা অনুযায়ী দাম না পেয়ে এবার বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা। অনেকে দিনভর চামড়া সংগ্রহ করে বিভিন্ন আড়তে নিয়ে কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। আবার অনেকে চামড়া বিক্রি করতে না পেরে রাস্তায় ফেলে দিয়েছেন।

নগরীর কাঁচা চামড়া বেচাকেনার মূল কেন্দ্র আতুরার ডিপো এলাকায় বিভিন্ন স্থান থেকে চামড়া সংগ্রহ করে বিক্রির জন্য আনেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। হালিশহর থেকে বড়-ছোট মিলিয়ে ২৫ পিস গরুর চামড়া সংগ্রহ করে আতুরার ডিপো এলাকায় আসেন মৌসুমি ব্যবসায়ী হাছান আলী। গাড়ি ভাড়াসহ প্রতিটি চামড়া কিনতে তার খরচ পড়েছে গড়ে ৩৬০ টাকা। কিন্তু আড়তদারের প্রতিনিধিরা তাকে প্রতি পিস চামড়ার দাম দিতে চেয়েছেন ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা।

শেষ পর্যন্ত অর্ধেক দামে চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হয়ে তিনি বলেন, ‘১০ হাজার টাকা ধার নিয়ে চামড়া কিনেছিলাম। আশা ছিল, কিছু লাভ থাকবে। কিন্তু উল্টো ধার করা পুঁজি থেকেই একটি অংশ হারাতে হলো।’