পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন গণমুখী উদ্যোগ জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়েছে এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেছে বলে দাবি করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র তিন মাসের মাথায় অনুষ্ঠিত ঈদে জনকল্যাণ, সুশাসন ও সমন্বিত প্রশাসনিক কার্যক্রমের ইতিবাচক প্রভাব দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
সোমবার (১ জুন) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছরের জবাবদিহিহীন শাসনের ফলে সৃষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক সংকট অল্প সময়ে দূর করা সম্ভব না হলেও এবারের ঈদে রাষ্ট্রের আন্তরিকতা ও জনকল্যাণমুখী প্রশাসনিক তৎপরতা দৃশ্যমান হয়েছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিরা নিজ নিজ এলাকায় ঈদ উদযাপন করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবারের ঈদকে কেন্দ্র করে সরকার ১০টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেয়। এর মধ্যে ছিল নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রা, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ, দেশীয় পশুর বাজার সুরক্ষা, দ্রুত বর্জ্য অপসারণ, গণপরিবহনে শৃঙ্খলা, চাঁদাবাজি দমন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, জননিরাপত্তা, চামড়া খাতের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা।
মাহ্দী আমিন বলেন, দীর্ঘ ছুটির কারণে ঘরমুখো মানুষের চাপ ছড়িয়ে পড়ায় মহাসড়কে যানজট তুলনামূলকভাবে কম ছিল। একই সঙ্গে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নত হওয়ায় সড়ক দুর্ঘটনার হারও অতীতের তুলনায় কমেছে। তবে টাঙ্গাইলসহ কয়েকটি স্থানে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি জানান, শ্রমিকদের ঈদ আনন্দ নিশ্চিত করতে সরকার, ব্যাংক ও শিল্প মালিকদের সমন্বয়ে বেতন ও বোনাস সময়মতো পরিশোধের ব্যবস্থা করা হয়। ফলে শিল্পাঞ্চলে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা যায়নি।
দেশীয় খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পশু প্রবেশ রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তার দাবি, কোরবানিযোগ্য পশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ায় দেশে প্রথমবারের মতো পশুতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জিত হয়েছে।
বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে কোরবানির বর্জ্য ৮ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে। ঈদের পরদিন প্রধানমন্ত্রী নিজে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে কয়েকজন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেন।
গণপরিবহন খাতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধ, নারী যাত্রীদের জন্য বিশেষ সুবিধা এবং প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য ভাড়া ছাড়ের ব্যবস্থার কথাও তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি পশুবাহী পরিবহনে চাঁদাবাজি রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।
বিদ্যুৎ সরবরাহ বিষয়ে তিনি বলেন, ঈদের সময় দেশের অধিকাংশ এলাকায় লোডশেডিং সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখতে সরকার সফল হয়েছে। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের উদ্যোগ জোরদার করা হচ্ছে। চামড়া শিল্প ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণেও সরকারের তৎপরতা ছিল বলে দাবি করেন মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, বাজার তদারকি এবং মূল্য নিয়ন্ত্রণে বিশেষ টাস্কফোর্স কাজ করেছে, ফলে উৎসবকে কেন্দ্র করে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, কোথাও কোনো ঘাটতি বা সমন্বয়হীনতা থাকলে তা দ্রুত চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। গণতন্ত্র, সুশাসন ও জনকল্যাণকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।