জুনে ভোগাবে ভ্যাপসা গরম

মে মাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠলেও মাসের শেষ দিকে গরমের অনুভব ছিল বেশি। আর এই বাড়তি গরমের জন্য বাতাসে অতিরিক্ত জলীয় বাষ্পের উপস্থিতিকেই দায়ী করেছিলেন আবহাওয়াবিদরা। মে মাসের মতো চলতি জুন মাসেও স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। আবার তাপমাত্রার পারদ কিন্তু তীব্রতর পর্যায়ে যাবে না। তারপরও গরমের অনুভবতা বেশি হবে। এখানেও ভোগাবে বাড়তি জলীয় বাষ্প।

চলতি জুন মাসের আবহাওয়া কেমন থাকবে জানতে চাইলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ৪৩ বছরের উপাত্ত নিয়ে গবেষণা করা আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জুন মাসে তাপমাত্রার পারদ ৩৭ থেকে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি না উঠলেও গরমের অনুভব বেশি থাকবে। আবার বৃষ্টিপাত কম হবে বলে গরমে মানুষের অস্বস্তি বাড়বে।’

গরমের অনুভব বেশির কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বাতাসে জলীয় বাষ্পের উপস্থিতি বেশি থাকবে। এই জলীয় বাষ্পের কারণে ভ্যাপসা গরমের অনুভূতি বেশি থাকবে এবং অস্বস্তি লাগবে।’

প্রথম সপ্তাহের পর প্রবেশ করবে মৌসুমি বায়ু : প্রতিবছর জুন মাসের প্রথম সপ্তাহের পর মৌসুমি বায়ু প্রবেশ করে থাকে। এবারও একই অবস্থা হবে কি না জানতে চাইলে আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, ‘জুনের প্রথম সপ্তাহের পর মৌসুমী বায়ু আমাদের দেশে টেকনাফ প্রান্ত দিয়ে প্রবেশ করে। আর মৌসুমি বায়ু প্রবেশের এক সপ্তাহের মধ্যে সারা দেশে তা সেট হয়ে গেলেই বৃষ্টিপাত শুরু হয়।’

মৌসুমি বায়ুর বৃষ্টিপাত কবে হতে পারে? এ প্রশ্নের জবাবে আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ বলেন, ‘মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে গিয়ে মৌসুমি বায়ু প্রবাহের কারণে বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে এই সময়ে সাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে যা নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে। আর তা সৃষ্টি হলে মৌসুমি বায়ু সেট হয়ে বৃষ্টি শুরু হতে একটু সময় লাগবে।’

গত ১৮ মে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছিল চুয়াডাঙ্গাতে। অন্যদিকে সারা দেশে গড়ে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হলেও  ঢাকায় ১৬ দশমিক ১, ময়মনসিংহে ৫০ দশমিক ৩, রংপুরে ৯৮ দশমিক ৭, সিলেটে ৩৪ দশমিক ৯ রাজশাহীতে ২৮ দশমিক ২ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছিল। চট্টগ্রামে ২১ দশমিক ১, খুলনায় ৩০ দশমিক ১ ও বরিশালে ৪৫ দশমিক ৩ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছিল বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে পাওয়া উপাত্তে দেখা যায়। এ বিষয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর চট্টগ্রামের পতেঙ্গা কার্যালয়ের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ ইসমাঈল বলেন, ‘কোনো এলাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা যদি ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসও থাকে, আর বাতাসের আর্দ্রতার পরিমাণ যদি ৮০ শতাংশের বেশি হয়, তাহলে অনুভব হবে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা।’

গরমের অনুভবে আর্দ্রতা একটি অন্যতম ফ্যাক্টর। ঢাকা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক বলেন, ‘ঢাকা শহরে গত ২২ মে সকাল ৯টায় বাতাসের আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৭৪ শতাংশ এবং সন্ধ্যা ৬টায় ৬৫ শতাংশ। আর্দ্রতার কারণেই  মানুষের মধ্যে গরম অসহ্য লাগছে। মূলত : সকাল ও বিকেলে বাতাসের আর্দ্রতা বেশি থাকে। এ জন্যই ভ্যাপসা গরম বেশি অনুভূত হয়। আর্দ্রতার পরিমাণ ৫০ শতাংশের নিচে থাকলে সবচেয়ে আরামদায়ক আবহাওয়া বলে বিবেচিত হয়ে থাকে।’ উল্লেখ্য, কোনো এলাকায় ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা হলে মৃদু ও ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে মাঝারি এবং ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যায়।