গাজীপুরের শ্রীপুরে জমিজমা নিয়ে পূর্ব বিরোধের জেরে একজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় অভিযুক্তরা বাড়ি ঘরেও হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এ হামলায় নারী শিশুসহ অন্তত ৫ জন আহত হয়।
সোমবার (১ জুন) দুপুরে বরমী ইউনিয়নের কাওরাইদ বরমী আঞ্চলিক সড়কের পাশে পাইটাল বাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এদিকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হামলার শিকার ব্যক্তি মঙ্গলবার (২ জুন) ভোরে মারা যান।
নিহত ব্যক্তির নাম আজিজুল ইসলাম (৪০)। তিনি পাইটালবাড়ি গ্রামের মোহাম্মদ আবু হানিফার ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই ৫ জনের নামসহ অজ্ঞাতদের আসামি করে অভিযোগ দিয়েছেন।
নিহতের পারিবার জানিয়েছে আজিজুলের পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী জামাল উদ্দীন ফকিরের সাথে জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ চলছিল। সোমবার দুপুরে আজিজুল তার ছোট ভাই তাজুল ইসলাম বাড়ির পাশে রাস্তায় দাঁড়িয়ে জমি নিয়ে কথা বলছিলেন। এ সময় জামাল উদ্দীন ফকির তার লোকজন নিয়ে অর্তকিতভাবে আজিজুলের ওপর হামলা করে বসে। এ সময় হামলাকারিরা লোহার রড, লাঠি, দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আজিজুলকে বেধড়ক পেটায়। পরে সে গুরুতর আহত হয়। এ সময় রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নিহতের ছোট ভাই তাজুল ইসলাম জানান, জামাল উদ্দীন ফকিরের লোকজন ভাইকে পেটানোর পর বাড়িতে হামলা চালায়। আমরা যখন আহত ভাইকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি তখন তারা আমাদের বাড়িতেও হামলা ভাঙচুর চালায়। এ সময় মারধরে তার মা কমলা বেগমসহ ৫ জন আহত হয়।
নিহতের খালা সামলা বেগম জানান, রাস্তায় দাঁড়িয়ে দুই ভাই কথা বলছিল। আচমকা তাদের ওপর হামলা করে জামাল ফকিরের লোকজন। এ সময় তাদের পিটুনিতে ভাগিনা আজিজুল মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তার মাথা ফেটে রক্ত পড়ছিল। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদিকে মঙ্গলবার ভোরে (সোমবার দিবাগত রাত) চিকিৎসাধীন আজিজুল হাসপাতালেই মারা যায়।
শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই ৫ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অজ্ঞাত আসামিও আছে অভিযোগে। পরে আহতের মৃত্যুর খবর জেনে এটি মামলা আকারে রুজু করা হয়। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পালিয়ে আছে। পুলিশ অভিযুক্তদের ধরতে কাজ করছে।