অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অবৈধ অভিবাসীদের দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া জোরদার করা হবে এবং বিতর্কিতভাবে ইইউর বাইরের দেশগুলোতে ডিটেনশন সেন্টার বা 'রিটার্ন হাব' স্থাপনের সুযোগ তৈরি করা হবে।
সোমবার (১ জুন) ইইউর তিনটি প্রধান প্রতিষ্ঠান—ইউরোপীয় কমিশন, ইউরোপীয় কাউন্সিল ও ইউরোপীয় পার্লামেন্ট—এর মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ বিষয়ে প্রাথমিক সমঝোতা হয়। সাইপ্রাসের অভিবাসন উপমন্ত্রী নিকোলাস ইওয়ানাইডিস বলেন, নতুন নিয়মের লক্ষ্য হলো 'যাদের ইইউতে থাকার বৈধ অধিকার নেই, তাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া দ্রুত করা।'
নতুন নীতির আওতায় সদস্য দেশগুলো এখন তৃতীয় দেশের সঙ্গে চুক্তি করে তাদের ভূখণ্ডে অভিবাসী আটক ও ফেরত পাঠানোর কেন্দ্র স্থাপন করতে পারবে। ইতিমধ্যে জার্মানি, অস্ট্রিয়া, নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক ও গ্রিসসহ কয়েকটি দেশ আফ্রিকাসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এ ধরনের 'রিটার্ন হাব' নিয়ে আলোচনা করছে।
সমালোচকদের মতে, এই নীতি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি বাড়াবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক কঠোর অভিবাসন নীতির সঙ্গে তুলনীয়। ব্রাসেলসভিত্তিক অভিবাসন অধিকার সংগঠনের এক মুখপাত্র এটিকে 'কঠোর ও দমনমূলক ডিটেনশন ও ডিপোর্টেশন ব্যবস্থা' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
অন্যদিকে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেইন বলেছেন, ২০১৫ সালের শরণার্থী সংকটের মতো পরিস্থিতি এড়াতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যখন প্রায় ১০ লাখ মানুষ ইউরোপে আশ্রয়ের জন্য প্রবেশ করেছিল।
তবে মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, নতুন নীতি ইইউর মৌলিক মানবাধিকার সনদের সুরক্ষা দুর্বল করবে এবং আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য ঝুঁকি বাড়াবে। তাদের আশঙ্কা, এসব 'রিটার্ন হাব' কার্যত আইনগতভাবে দুর্বল নিয়ন্ত্রিত আটককেন্দ্রে পরিণত হতে পারে, যেখানে নির্যাতন বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি থাকবে।