কুয়েত-ইরাক প্রত্যাগত ক্ষতিগ্রস্তদের বকেয়া ক্ষতিপূরণের দাবি

কুয়েত ও ইরাক থেকে ফিরে আসা প্রায় ২৫ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশির জন্য জাতিসংঘ থেকে প্রাপ্ত ৩৩ কোটি ১২ লাখ মার্কিন ডলারের সুষ্ঠু বণ্টন এবং তাদের অর্থে ক্রয়কৃত জমি ক্ষতিগ্রস্তদের নামে হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছেন ফেনীর প্রবাসীরা।

মঙ্গলবার (২ জুন) ‘বাংলাদেশ বিদেশ প্রত্যাগত প্রবাসী ও নন-প্রবাসী কল্যাণ দল’-এর চেয়ারম্যান আবু আহাম্মদ ভূঁঞা এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বকেয়া ক্ষতিপূরণের টাকা আদায়ের দাবিতে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন এবং প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। 

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, কুয়েত-ইরাক প্রত্যাগতদের জন্য জাতিসংঘ থেকে প্রায় ৩৩ কোটি ১২ লাখ ৩০ হাজার ৮৫৫ মার্কিন ডলার বাংলাদেশে এসেছে। কিন্তু সরকার এর এক-চতুর্থাংশ টাকাও ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীদের দেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। ম্যানপাওয়ার ব্যুরোর মহাপরিচালকের কাছে বারবার হিসাব চাওয়া হলেও কোনো হিসাব দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও বিভিন্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপকদের উপস্থিতিতে বৈঠক হলেও টাকার বিষয়ে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন।

তিনি আরও বলেন, ভুক্তভোগী কুয়েত-ইরাক প্রত্যাগতদের যাতায়াত ব্যয় (২ থেকে ৫ হাজার টাকা) সাশ্রয় এবং প্রতারণা এড়াতে সরাসরি অনলাইন ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ রাখা উচিত।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, জাতিসংঘ থেকে প্রাপ্ত টাকার লভ্যাংশের ৩২ কোটি টাকার মধ্যে ২৬ কোটি টাকা দিয়ে কুয়েত-ইরাক প্রত্যাগতদের জন্য একটি জমি কেনা হয়েছিল। বাকি ৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও তোলা হয়। তবে ম্যানপাওয়ার ব্যুরো জালিয়াতির মাধ্যমে ওই মূল্যবান জমি প্রবাসীদের নামে নিবন্ধন না করে নিজেদের নামে লিখে নিয়েছে বলে দাবি করা হয়।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, আওয়ামী লীগ সরকার ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ওই ১৫১ কাঠা জমিতে হাউজিং প্রকল্প, অ্যাপার্টমেন্ট এবং আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল নির্মাণের কথা বলে শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে কোনো উন্নয়নকাজই হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়।

আবু আহাম্মদ ভূঁঞা বলেন, তিনি গত ৩০ বছর ধরে এ বিষয়ে আইনি ও সামাজিক আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। তার কাছে জমি ক্রয়ের মূল দলিলের প্রত্যয়িত অনুলিপি রয়েছে, যা প্রমাণ করে সম্পত্তিটিতে সরকারের কোনো অর্থ বিনিয়োগ নেই; এটি সম্পূর্ণভাবে প্রবাসীদের অর্থে কেনা হয়েছে।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যদি আমাদের এই জমি ফিরিয়ে দেওয়া না হয় কিংবা প্রবাসীদের ন্যায্য শেয়ার বুঝিয়ে না দেওয়া হয়, তাহলে প্রয়োজনে আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা আমাদের সম্পত্তি দখলে নেব। আমরা যদি সরকার পরিবর্তন করতে পারি, তাহলে আমাদের ন্যায্য সম্পত্তি কেন দখলে নিতে পারব না?’

প্রবাসীদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া এবং ম্যানপাওয়ার ব্যুরোর দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের হাত থেকে প্রবাসীদের সম্পদ রক্ষায় প্রধান উপদেষ্টা/সরকারপ্রধানের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে প্রায় অর্ধশতাধিক প্রবাসী অংশগ্রহণ করেন।