খুলনায় বন্ধুর স্ত্রীকে বিয়ে করার জেরে হত্যা

খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার কৃষ্ণনগর এলাকায় কাজী রাশিদুল ইসলাম (২১) নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। 

মঙ্গলবার দুপুরে নগরীর লবণচরা থানার সাচিবুনিয়া স্কুলভিটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সে কৃষ্ণনগর এলাকার কাজী আনিসুর রহমানের ছেলে। রাশিদুল একটি ছাপাখানার কর্মচারী ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তি তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে বাড়ি থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরের স্কুলভিটা এলাকায় তাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

লবণচরা থানার ওসি সৈয়দ মোশাররফ হোসেন জানান মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। কারাগরে পরিচয় হওয়া ইমরান নামের এক যুবকের স্ত্রীকে ছয় মাস আগে বিয়ে করার জেরে রাশিদুলকে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশ প্রাথমিক ভাবে ধারণা করছে ।

বিয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ১৯ মার্চ একদল দুর্বৃত্ত রাশিদুলের বাড়িতে ঢুকে তার বাবা আনিসুর রহমান, মা রঞ্জুয়ারা বেগম, বড় ভাই রাইছুল ইসলাম ও স্ত্রী ফাহিমাকে গুলিতে আহত করে। পরে তাদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে এই হত্যাকাণ্ডে ইমরানের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। গত ১৯ মার্চের গুলির ঘটনায় ইমরানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, সম্প্রতি সে জামিনে মুক্তি পায়। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। 

রাশিদুলের বাবা আনিসুর রহমান বলেন, গত ১৯ মার্চ তাদের বাড়িতে ঢুকে তাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলায় জড়িত ব্যক্তিরাই তার ছেলেকে হত্যা করেছে।

পুলিশ সূত্র জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে একটি মামলায় রাশিদুল কারাগারে যান। সেখানে ইমরান নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ওই সূত্রে ইমরানের পরিবারের সঙ্গে রাশিদুলের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ গড়ে ওঠে। 

একপর্যায়ে ইমরানের স্ত্রীর সঙ্গে রাশিদুলের সম্পর্ক তৈরি হয়। প্রায় আট মাস আগে ইমরান আরেকটি মামলায় কারাগারে গেলে রাশিদুল ওই নারীকে বিয়ে করেন।

ওই সময় গুলিবিদ্ধ ফাহিমা বলেছিলেন, সাত থেকে আট মাস আগে সাবেক স্বামী ইমরানের সঙ্গে তার বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর তিনি বিয়ে করেন। ভোরে ১৯ মার্চ তার সাবেক স্বামী লোকজন নিয়ে এসে ঘুমন্ত অবস্থায় তাদের ওপর গুলি চালান। এই ঘটনায় আদালতে মামলার প্রস্তুতি চলছে।