কাটলারির আদ্যোপান্ত

কাটলারির ইতিহাস হাজার বছরের পুরনো। আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ কাটলারি বা খাবার খাওয়ার উপকরণ ছুরি, চামচ ও কাঁটা চামচ। প্রাচীন মানুষ খাবার খেত হাত দিয়েই। মধ্যযুগেও সাধারণ মানুষ হাতে খাওয়ার পাশাপাশি শক্ত ও বাসি রুটির টুকরা (ট্রেঞ্চার) ব্যবহার করত খাবার খেতে। কাটলারির মধ্যে সবচেয়ে আগে আসে ছুরি। প্রস্তর যুগে ছুরি মূলত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হলেও খ্রিস্টপূর্ব ১০০০ সালের দিকে লোহার ছুরি খাবার খাওয়ার কাজে ব্যবহৃত হতে শুরু করে। সপ্তদশ শতকে ফ্রান্সের কার্ডিনাল রিশেল্যু টেবিলে ব্যবহৃত ছুরির ধার ভোঁতা করার নির্দেশ দেন। এর ফলে আধুনিক ডিনার নাইফের জন্ম হয় এবং খাবার কাটার সময় সেটিকে ধরে রাখতে কাঁটা চামচের ব্যবহার জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

চামচের ইতিহাসও বেশ প্রাচীন। প্রথম দিকের চামচ কাঠ, শিং ও ঝিনুকের খোল দিয়ে তৈরি হতো। রোমান যুগে ব্রোঞ্জ, পিউটার ও রুপার চামচ ব্যবহৃত হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর নকশা পরিবর্তিত হয়ে আধুনিক রূপ লাভ করে।

কাঁটা চামচের ব্যবহার শুরু হয় অনেক পরে। প্রাচীন মিসরে রান্না ও আনুষ্ঠানিক কাজে ব্যবহৃত হলেও খাবার টেবিলে কাঁটা চামচের প্রচলন মধ্যপ্রাচ্যে, প্রায় ৪০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে। ইউরোপে কাঁটা চামচ জনপ্রিয় হয় ১৫৩৩ সালে। ফ্রান্সের রানী ঈধঃযবৎরহব ফব’ গবফরপর ইতালি থেকে এটি নিয়ে আসেন। প্রথম দিকের কাঁটা চামচে দুটি দাঁত ছিল; আঠারো শতকে জার্মানিতে চার দাঁতযুক্ত কাঁটা চামচের প্রচলন শুরু হয়। উনিশ শতকের মধ্যে পশ্চিমা বিশ্বের প্রায় প্রতিটি পরিবারে ছুরি, চামচ ও কাঁটা চামচের ব্যবহৃত হতে থাকে।

১৯১৩ সালে ঐধৎৎু ইৎবধৎষবু স্টেইনলেস স্টিল আবিষ্কার করলে কাটলারি শিল্পে বিপ্লব ঘটে। আজ কাটলারি শুধু প্রয়োজনীয় উপকরণ নয়, বরং ডাইনিং সংস্কৃতি ও নান্দনিকতারও অংশ। বিভিন্ন নকশা, আকার, রঙ ও উপকরণের কাটলারি বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা হাজার বছরের বিবর্তনের ফল।