দেশের বিভিন্ন স্থানে শিশু ও কন্যাশিশুদের ধর্ষণ, শ্লীলতাহানি, নির্যাতন ও হত্যার ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার চরমজলিশপুর ইউনিয়নের তানজিরুল ইসলাম সজীব নামে এক ব্যক্তি নিজের কন্যাসন্তানের নিরাপত্তার জন্য বৈধভাবে একটি শটগানের লাইসেন্স ও অস্ত্র বরাদ্দ চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন।
গত ৩১ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন পাঠানোর পর বিষয়টি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও নানা প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
তানজিরুল ইসলাম সজীব একজন পল্লী চিকিৎসক। সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের প্রেক্ষাপটে ৩১ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, তার সাত বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। দেশের বর্তমান সামাজিক পরিস্থিতি, শিশু ও নারী নির্যাতনের ঘটনা এবং কন্যাসন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
আবেদনপত্রে তিনি দাবি করেন, একজন দায়িত্বশীল বাবা হিসেবে পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আত্মরক্ষার স্বার্থে একটি বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র প্রয়োজন। এ জন্য দেশের প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করে একটি শটগানের লাইসেন্স ও অস্ত্র বরাদ্দের আবেদন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অস্ত্রের অপব্যবহার রোধে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার এবং আইন অনুযায়ী সব ধরনের শর্ত মেনে চলার অঙ্গীকারও করেছেন।
এ বিষয়ে তানজিরুল ইসলাম সজীব বলেন, একটি পরিসংখ্যানে তিনি দেখেছেন, গত কয়েক মাসে দেশে শিশু ও কন্যাশিশুদের ধর্ষণ, শ্লীলতাহানি, নির্যাতন এবং ধর্ষণের পর হত্যার মতো ২১টির বেশি ঘটনা ঘটেছে। রাষ্ট্র এখন শিশুদের যথাযথ নিরাপত্তা দিতে পারছে না। সাম্প্রতিক সময়ের এসব ঘটনা তাকে উদ্বিগ্ন করেছে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্র যদি কন্যাসন্তানদের যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারে, তাহলে আত্মরক্ষার বৈধ উপায় থাকা উচিত। মূলত এ বিষয়টির প্রতি রাষ্ট্রের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই তিনি আবেদন করেছেন।
সজীব আরও বলেন, গত ২৭ মে তার পাশের ওয়ার্ডে ১০ বছর বয়সী এক শিশুকন্যা ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখে নিজের সাত বছর বয়সী মেয়ের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে তিনি শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। তিনি রাষ্ট্রের কাছে কন্যাসন্তানদের নিরাপত্তা এবং সাধারণ মানুষের জানমালের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এদিকে আবেদনপত্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই এটিকে একজন উদ্বিগ্ন বাবার অসহায়ত্ব ও সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে উৎকণ্ঠার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, অস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান নয়; বরং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং অপরাধ দমনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণই এ ধরনের সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান।